
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ নয় বছর রাজ্যের মহিলা কমিশনের দায়িত্ব সামলানোর পর অবশেষে সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাতে তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি। লীনা জানিয়েছেন, “দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের মহিলা কমিশনের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। কমিশন থেকে এখনও আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।” সূত্রের খবর, বুধবার কমিশনের দপ্তরে একটি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। সেখানেই সম্ভবত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করবেন।
গত এপ্রিল মাসে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর পর থেকেই লীনার পদত্যাগ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই সময় বাংলা বিনোদন জগতের একাংশ ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি মহিলা কমিশনের দায়িত্বে থাকা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এরপর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ তৈরি হতেই তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ওয়াকিবহল মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে টলিউডেও। নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে প্রাক্তন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে পরিচিত লীনার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এমন এক সময় তিনি দায়িত্ব ছাড়লেন যখন নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপি নেত্রী-অভিনেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ফলে লীনার পদত্যাগের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের যোগ রয়েছে বলেই মত অনেকের।

প্রসঙ্গত, আগামী জুলাই মাসে মহিলা কমিশনের সভাপতি হিসেবে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-র মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পর এবার তিনি আবার পুরোপুরি সৃজনশীল জগতে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। বাংলা টেলিভিশনের একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ফের ছোটপর্দার কাজে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।
