
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:গণনার প্রথম থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে যেন শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। তৃণমূল বনাম বিজেপি—এই দুই শিবিরের দড়ি টানাটানিতে প্রতি রাউন্ডেই বদলে যাচ্ছে ছবির রং। কখনও সবুজের জয়ধ্বনি, তো কখনও গেরুয়া শিবিরে উল্লাস—একেবারে শেষ বল পর্যন্ত লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ট্রেন্ড।এই উত্তেজনার মাঝেই যেন নীরব বাম শিবির। দ্বিতীয় রাউন্ড পার হলেও এখনও স্কোরবোর্ডে নাম ওঠেনি সিপিএম বা আইএসএফের। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আত্মবিশ্বাস হারাননি ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। বরং আরও জোর গলায় জানাচ্ছেন—জোট সরকার গড়ার স্বপ্ন এখনও অটুট। তাঁর এই দাবি কতটা বাস্তব, আর কতটা রাজনৈতিক বার্তা—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার ভোটগণনার শুরুর কয়েকঘণ্টা পর তিনি বলেন, “ভাঙড় থেকে কমপক্ষে ৫০ হাজার ভোটে জিতছি। ডবল ডিজিট নিয়ে বিধানসভায় যাব। বাম ও আইএসএফের শক্তির ব্যাপক উত্থান হবে।” তাঁর আরও দাবি, “তৃণমূল ও বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি। বিজেপি প্রতিটি বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি। আর এত সুষ্ঠু ভোট হয়েছে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায় তৃণমূলকে পাত্তা দিচ্ছে না মানুষ। আট-দশ বছর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সুদে আসলে মিটিয়েছে মানুষ। আমরা ভোট দিয়ে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জেতাব না।”
ভাঙড়ে এবার আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে তৃণমূলের শওকত মোল্লার লড়াই। শওকত এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ভোটে এগিয়ে। খাতা খুলতে পারেননি নওশাদ। আবার ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামও বেশ পিছিয়ে। তবে তা সত্ত্বেও জয়ের বিষয়ে এখনও প্রত্যয়ী নওশাদ। বলে রাখা ভালো, ফলপ্রকাশের আগে থেকেই নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নওশাদ। ভাঙড় থেকে ৫০ হাজার ভোটে জিতবেন বলে বারবার দাবি করেছেন বিদায়ী বিধায়ক। এখনও সেই একই দাবি শোনা যাচ্ছে নওশাদের গলায়।
