
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ কথায় বলে সময় সবচেয়ে বড় বন্ধু মানুষের, আবার এই সময়ই কখনও খারাপ চলে তখন সে মানুশেরি সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে নানান রকম মানুষকে বেছে নিতে হয় নানান রকম পথ। আবার কেউ কেউ প্রলোভনের করাল গ্রাসে দুবে যায় কুখ্যাতির অতলে।
আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে এক বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। তবে জনপ্রিয় এই অভিনেতার রয়েছে এক কালিমালিপ্ত অতীত। সেই দিনগুলির কথাই তুলে ধরলেন অভিনেতা। এবং দিলেন এক ইতিবাচক বার্তা।
মাদককাণ্ডে নাম জড়িয়ে প়ড়া থেকে শুরু করে বেআইনি পথে অস্ত্র রাখার কারণে জেলেও যেতে হয়েছে সঞ্জয়কে। মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার জন্যই নাকি মাদকের নেশায় ডুবেছিলেন স়ঞ্জয়। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, ‘‘আমি মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না। আমার বন্ধুরা বলেছিল, নেশা করলে মেয়েদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলার আত্মবিশ্বাস জন্মায়। সেই লোভেই নেশা করা শুরু করি আমি।’’ কলেজে পড়ার সময় থেকেই নেশা করা শুরু করেছিলেন তিনি। স্রেফ শখের কারণে বন্ধুদের সঙ্গে নেশা করতে বসেছিলেন তিনি। কিন্তু তা যে কখন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে, বুঝতে পারেননি সঞ্জয়।
অভিনেতা জানান, তাঁর জীবনে এমন এক সময় এসেছিল যখন তিনি মাদক ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারতেন না। কলেজ ছাড়ার ন’বছর পরেও মাদকের নেশা ছাড়তে পারেননি তিনি। ১৯৮১ সালে যখন তাঁর প্রথম ছবি ‘রকি’ মুক্তি পায়, তখন আরও বেশি মাত্রায় মাদক নিতেন তারকা। নিজের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়েও সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি আলোচনা করেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, ‘‘হেরোইন নিয়ে আমি এক দিন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙার পর দেখি খুব খিদে পেয়েছে। আমার ভৃত্যকে গিয়ে কিছু খেতে দিতে বলি।’’ সঞ্জয়কে দেখে নাকি তাঁর ভৃত্য কেঁদে ফেলেছিলেন। সঞ্জয়ের তিনি বলেন, ‘‘দু’দিন পর আপনার জ্ঞান ফিরল।’’ শুনেই আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে ছুটে যাই আমি। নিজেকে দেখে কেঁদে ফেলি। তার পর সোজা বাবার কাছে যাই। মাদকের নেশা কাটানোর জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রেও গিয়েছিলেন তিনি।
এইসব পুরোনো কালো দিনের কথা বলার শেষে অভিনেতা বলেন, ‘‘জীবনে যদি ‘হাই’ হতে চাও, তা হলে ভাল কাজ করো। নিজের পরিচিতি তৈরি করো। নেশা করে ‘হাই’ হয়ে কোনও লাভ নেই। নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে।’’
