
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বসন্তের দূত বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আগুনের মতো লাল পলাশ ফুল। কোথাও একে ‘টেসু’ বলা হয়, আবার কোথাও বলা হয় ‘বনশিখা’। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সাধারণ দেখতে ফুলটির পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক ও ঔষধি রহস্য? জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, পলাশ ফুল বাড়িতে আনা মানেই পজিটিভ শক্তির প্রবেশ। পলাশ ফুল যেমন গ্রহদোষ দূর করে, তেমন আয়ুর্বেদেও এই ফুলের উপকারী গুণাগুণের কথা উল্লেখ আছে। জ্যোতিষে বলা আছে যে পলাশ ফুলে স্বয়ং ত্রিদেব, অর্থাত্ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের বাস।
পলাশ ফুলের টোটকায় মঙ্গল ও শনি গ্রহের রোষ শান্ত করা যায়। জ্যোতিষে পলাশ ফুলের কয়েকটি টোটকার কথা উল্লেখ আছে। পলাশ ফুল নিয়ে এই কাজগুলি করলে কখনও আর্থিক সমস্য়ার মুখে আপনাকে পড়তে হবে না। দেবী সরস্বতীর প্রিয় ফুল পলাশ। সেই কারণে তাঁর আর এক নাম পলাশ-প্রিয়া। সরস্বতী পুজোর আগে জেনে নিন পলাশ ফুল নিয়ে এই টোটকাগুলি সম্পর্কে।
আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য পলাশের টোটকা
শুক্রবারে একটি একাক্ষী নারকেলের সঙ্গে একটি পলাশ ফুল সাদা কাপড়ে বেঁধে নিন। তারপর এটি মা লক্ষ্মীকে নিবেদন করে তাঁর পুজো করুন। এরপর কনকধারা স্তোত্র জপ করুন। পুজোর শেষে ওই সাদা কাপড়ের পুঁটলি বাড়িতে যেখানে টাকা-পয়সা রাখেন, সেখানে রেখে দিন। এর ফলে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদে আপনার জীবনের সব আর্থিক সমস্যা কেটে যাবে।
মনের সাহস বাড়াতে পলাশের টোটকা
মঙ্গলকে শান্ত করে মনের সাহস বাড়াতে টানা ২১ মঙ্গলবার বজরংবলীকে পলাশ ফুল নিবেদন করে পুজো করুন। পুজোর পরে সুন্দরখণ্ড পাঠ করুন। এর ফলে কোষ্ঠীতে মঙ্গল শুভ হবে এবং আপনার মনের সাহস ও শক্তি বাড়বে। একই সঙ্গে বজরংবলী তুষ্ট হয়ে আপনার জীবনের সব বাধা দূর করবেন।
শনিকে শান্ত করতে পলাশের টোটকা
শনির সাড়েসাতি ও ধাইয়ার প্রকোপ এড়াতে প্রতি শনিবার শনি মন্দিরে গিয়ে শনি দেবতাকে পলাশ ফুল, সর্ষের তেল ও কালো তিল নিবেদন করুন। এর ফলে শনির অশুভ প্রভাব কেটে যাবে এবং শনি মহারাজের আশীর্বাদ লাভ করবেন।
নবগ্রহকে শান্ত করতে পলাশের টোটকা
নবগ্রহকে শান্ত করতে স্নানের জলে একটু পলাশ, জুঁই, গোলাপ ফুল ও একটু তুলসী পাতা মিশিয়ে নিন। টানা ৪২ দিন এই কাজ করলে নবগ্রহের রোষ শান্ত হবে।
সূর্যের শুভ প্রভাব পেতে পলাশের টোটকা
জন্মছকে সূর্য অশুভ স্থানে থাকলে রবিবারে পলাশ কাঠ দিয়ে যজ্ঞ করুন ও আদিত্য হৃদয় স্তোত্র জপ করুন।
