
কলকাতা, ৩১ জুলাই: স্যার ফ্রাঙ্ক মর্টিমার ম্যাগলিন ওরেল। বিশ্ব ক্রিকেটে এক স্মরণীয় নাম। জন্ম: ১ আগস্ট, ১৯২৪। বার্বাডোসের ব্রিজটাউনের সেন্ট মাইকেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ওয়েস্টইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। দর্শনীয় ব্যাটিং ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনকারী ফ্রাঙ্ক ওরেল বামহাতি সিম বোলার হিসেবেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলে অবদান রেখেছেন। ১৯৫০-এর দশকে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়করূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব প্রদান করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন।
এই দিনটা এলেই ভারতীয়দের মনে পড়ে যায় রক্তদানের কথা। কারণ এই দিনটায় যে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের নরি কন্ট্রাক্টর ও ক্যারিবিয়ান সম্রাট স্যার ফাঙ্ক ওরেলের নাম। ক্রিকেটের বল লাগল কনন্ট্রাকটরের মাথায়। আর রক্তদান করে ইতিহাস গড়লেন এই ক্রিকেটার। শুধু রক্তদানের ইতিহাস নয়, বদল এনে ফেললেন খেলার পোশাকেও। কারণ, তখন মাথায় হেলমেটের প্রচলনই ছিল না। তাহলে তো আর নরি কনন্ট্রাকটরের মাথা ফাটত না। আর এমন ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে সিএবি শুরু করে রক্তদান শিবির। যে ধারা আজও অব্যাহত।
১৯৬২ সালের সেই ঘটনাটা একবার ফিরে দেখা যাক।কিংসটন ওভাল। মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মুখোমুখি ভারতীয় দল। সেই ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক ছিলেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান নরিম্যান জামসেদজি কনন্ট্রাকটর। ওই ম্যাচে যখন তিনি ২ রানে অপরাজিত ঠিক সেই সময় ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার চার্লি গ্রিফিথের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলটি তাঁর মাথার পিছনের দিকে গিয়ে লাগে। প্রচুর রক্তপাত হয় তার মস্তিষ্কে। তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। মস্তিকে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুবার অস্ত্রোপচার করতে হয়।এরপর রক্তের প্রয়োজন হয় তার। এই বিপদের মুহূর্তে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক ফ্র্যাঙ্ক ওরেল। সেই সময় কনন্ট্রাকটরকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন ফ্র্যাঙ্ক ওরেল। কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায় কনন্ট্রাকটরের ক্রিকেট খেলা। সুস্থ হয়েও আর মাঠে ফিরতে পারেন নি তিনি । কারন, চিকিৎসকরা অনুমতি দেননি।
সেদিন স্যার ফ্র্যাঙ্ক ওরেলের এই মানবিকতার জন্য মুগ্ধ হয়েছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। আর স্যার ফ্র্যাঙ্ক ওরেলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৮১ সাল থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন সিএবিতে ফ্র্যাঙ্ক ওরেলের নামে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। ওই দিনটি উৎযাপন করা হয় ফ্রাঙ্ক ওরেল ডে হিসাবে। প্রতি বছর রাজ্যের বহু মানুষ এই রক্তদান শিবিরে রক্তদান করেন। ১৯৮১ সালে প্রথমবার যে সার্টিফিকেট রক্তদাতাদের দেওয়া হয় তাঁর মধ্যে সই ছিল নরিম্যান কনন্ট্রাকটরের। ১৯৮২ সালে তাতে সই করেন ডন ব্রাডম্য।ন ও ইয়ান বোথাম। ১৯৮৩ সালে সই করেন ইমরান খান, ৮৪-তে গাভাসকর, ৮৫-তে কপিলদেব। এইভাবে প্রতিবছর সই করে থাকেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, মাস্টার ব্ল্যাস্টার শচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলির, রোহিত শর্মা। এবার সিএবিএর ৪২তম রক্তদান দিবস। স্যার ওরেলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হবে এই রক্তদান শিবির।
