
কলকাতা, ১৪ অক্টোবর: আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শুরু হয়ে যাবে ভারত পাকিস্তানের মহারন। আর সেই লড়াই দুই দলের মধ্যকার চার লড়াইকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রোহিত বনাম শাহিন:
সম্প্রতি পাকিস্তানের বাঁ-হাতি পেসার শাহিন আফ্রিদির গতির সামনে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা নিজেকে খুব একটা মেলে ধরতে পারেননি। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে পাললাকেলেতে রোহিতের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিয়েছিলেন শাহিন। তবে কলম্বোতে পরের সাক্ষাতে রোহিত বেশ সাবধানে খেলেছেন। দু'জনের দ্বৈরথ শুরু হয়েছে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে। দুবাইয়ে শাহিন তার প্রথম ওভারেই রোহিতকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজ লড়াইটা কেমন হয় সেটাই দেখার।
কোহলি বনাম রউফ:
গত বছর মেলবোর্নের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারিস রউফের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিরাট কোহলি। পাকিস্তানের দেওয়া ১৬০ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ভারতের সামনে জয়ের জন্য ১৮ বলে ৩১ রানের প্রয়োজন ছিল। রউফের ওভারে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে কোহলি এমসিজের স্টেডিয়াম ভর্তি পাকিস্তানি দর্শকদের নিশ্চুপ করে দিয়েছিলেন।পরবর্তীতে কোহলি বলেছিলেন ছক্কাগুলো ছিল ‘সহজাতপ্রবৃত্তি’। কিন্তু তারপর থেকেই রউফের সঙ্গে কোহলির একটা ঠান্ডা লড়াই চলে আসছে, যা আহমেদাবাদেও দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাবর বনাম বুমরাহ :
২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাবরের সঙ্গে জসপ্রিত বুমরাহ লড়াই শুরু হয়েছে। সেবার ভারতীয় পেস আক্রমণে ‘ইয়র্কার কিং’ হিসেবে পরিচিত বুমরাহসহ অন্যান্য পেসারদের অনায়াসেই খেলে গেছেন বাবর। সাবলীল ব্যাটিং দিয়ে দুবাইয়ে তিনি ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটের জয় উপহার দিয়েছিলেন।
কিন্তু দুই বছর পর বুমরাহ ও তার সতীর্থরা মিলে বাবর বাহিনীকে ভালোই শিক্ষা দিয়েছিলেন। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে ২২৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংস ১২৮ রানেই গুটিয়ে যায়। কলম্বোর ম্যাচটিতে বুমরাহর বেশ কয়েকটি ডেলিভারিতে বাবর খেলতে ব্যর্থ হয়েছে। শেষপর্যন্ত অবশ্য পাকিস্তানি অধিনায়ককে সাজঘরের পাঠিয়েছিলেন হার্ডিক পান্ডিয়া।
ইফতিখার বনাম কুলদ্বীপ:
পাকিস্তানি এই ব্যাটার মাঝে মাঝেই ব্যাট হাতে তার দক্ষতা দেখান, কিন্তু গত মাসে এশিয়া কাপে ভারতীয় স্পিনার কুলদ্বীপ যাদবের কাছে ২৩ রানে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন ইফতিখার। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ইফতিখারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান কুলদ্বীপ। বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার কুলদ্বীপ ওই ম্যাচে ২৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। বোলারদের ওপর ভর করে ভারত ১০০ রানের বিশাল জয় তুলে নেয়। সদ্যসমাপ্ত ওই ম্যাচটির স্মৃতি হয়তো ভারত ফিরিয়ে আনতে চাইবে আহমেদাবাদে। আর আজকের ম্যাচে ইফতিখারের মূল দায়িত্বই হবে ভারতীয় এই স্পিনারকে প্রতিরোধ করা।
