Breaking News
 
ssc-omr-sheets : রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রকাশের দিনেই প্রকাশ্যে শিক্ষক নিয়োগের ওএমআর শিট, বাড়ল বিতর্ক TMC: অষ্টাদশ বিধানসভায় তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন শোভনদেব; গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরহাদ-নয়নারা Narendra Modi: জনসমুদ্রে ‘সোনার বাংলা’র অঙ্গীকার! গেরুয়া ঝড়ে কাঁপল কলকাতা, ব্রিগেডে জনতার শক্তির জয় Suvendu Adhikari: প্রতিশোধ নয়, পরিবর্তনই লক্ষ্য! জোড়াসাঁকো থেকে বিরোধীদের সংযত হওয়ার বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর Mamata Banerjee: মমতার অন্ধ স্নেহেই কি ডুবল দল? ফিরহাদ-কন্যার ধৃতরাষ্ট্র-মন্তব্যে পাল্টাহাওয়ার ইঙ্গিত ঘাসফুল শিবিরে Suvendu Adhikari: শ্যামাপ্রসাদের উত্তরসূরি হিসেবে উদয়! ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

 

Game

2 years ago

Eden Death Case 1980 : আগামীকাল ১৬ আগস্ট, ১৯৮০-র ভয়াবহ সেই দিনের আতঙ্ক এখনও পিছু ছাড়েনি ইডেনকে

Eden Death Case 1980 (Symbolic Picture)
Eden Death Case 1980 (Symbolic Picture)

 

কলকাতা, ১৫ আগস্ট : আগামীকাল ১৬ আগস্ট। ‘ফুটবল শহীদ দিবস’। ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্টের এই দিনে ইডেনে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল কলকাতা লীগের ডার্বি ম্যাচকে কেন্দ্র করে যে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটেছিল তার ৪৩-বছর পূর্তির দিন। সেই দিন মাঠে এক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৬ জন ফুটবলপ্রেমী বাঙালি, আর আহত হয়েছিলেন বহু মানুষ।

কিভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা:

দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটের মাথায় যখন মোহনবাগানের বিদেশ বসু ও ইস্টবেঙ্গলের দিলীপ পালিত একে অন্যের সঙ্গে রীতিমতো শারীরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন তখন উত্তেজিত গ্যালারিকে আর সামলানো যায়নি। রেফারি সুধীন চ্যাটার্জী বিদেশ বসু ও দিলীপ পালিত দুজনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে যখন মাঠ থেকে বের করে দেন তখন দর্শক গ্যালারিতে উত্তেজনা চরমে ওঠে। দর্শকদের মধ্যে রোষ এতটাই চরমে উঠল যে বিপক্ষ দলের সমর্থককে গ্যালারি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিতেও কোনও রকম দ্বিধাবোধ হয়নি।

এই সময় কলকাতা পুলিশ দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। আতঙ্কিত জনতা একসাথে ইডেন থেকে বেরোতে গেলে অনেকেই পদপৃষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারান। এই দূর্ঘটনায় মোট ১৬ জন নিহত হন এবং গুরুতরভাবে আহত হন অনেক বেশি মানুষ। পরের দিন সংবাদপত্র গুলিতে এই মর্মান্তিক ছবি দেখে সাধারণ মানুষ শিহরিত হয়ে ওঠে। এই দূর্ঘটনার জন্য দায়ী ফুটবল খেলাই। সংবাদপত্রে এই শিরোনাম দেখার পর সাধারণ বাঙালি সমাজে ফুটবল খেলাই এক ভীতিপ্রদর্শনকারী হয়ে ওঠে। বাঙালির প্রাণের খেলা ফুটবল দারুনভাবে আঘাত খায়। এই ঘটনার পরই বাঙালি মধ্যবিত্তের হৃদয়ে ফুটবল খেলা সম্পর্কে ভয় ও আশঙ্কার জন্ম দেয়। বাড়ির অভিভাবকরা ছোট ছোট ছেলেদেরকে ফুটবল মাঠ থেকে তাদের সরিয়ে নেয়। এর ফলে 'বাঙালির সেরা তুমি ফুটবল' যেন কিছুটা আঘাত পায়! এরফলে, ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে কলকাতা ফুটবলে স্থানীয় প্রতিভার অভাব দেখা যায়। প্রায় অনেকেই ফুটবল ছেড়ে ক্রিকেটের দিকে ঝোক দেয়। বাঙালিকে অনেক বেশিমাত্রায় ক্রিকেট মুখী করে তোলে। যার ফলে আক্ষরিক ক্ষতি হয় বাংলার ফুটবলের। বাঙালির সাময়িক এই ফুটবল থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার প্রধান কারণ ছিল সেই ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট।

পরবর্তী সময়ে এই বিশেষ দিনটিকে ‘ফুটবল শহীদ দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে ১৯৮৪ সালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণ তৈরি হয়। বাঙালির বহুকালের ইচ্ছা পূরণ হয়। এইরকম স্টেডিয়াম দূর্ঘটনার সম্ভাবনাকেও অনেক কমিয়ে দিয়েছে। ডার্বি ম্যাচ থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সবই এখন হচ্ছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। আইএফএ ও এআইএফএফ ফুটবল খেলার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কলকাতা ফুটবলে দর্শক হিংসার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নির্মূল না হলেও অনেকাংশেই কমেছে । আগামীকাল ১৬ আগস্ট, শহীদ দিবস।১৯৮০-র ওই মর্মান্তিক দূর্ঘটনার ৪৩ বছর পূর্তিতে একটাই প্রার্থনা, সেই দিন যেন আর কখনও না ফিরে আসে আমাদের কাছে।


You might also like!