
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সংগ্রামের জয়: কান্নায় ভিজল শপথের অঙ্গীকার। শুক্রবার অমিত শাহ যখন শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করলেন, তখন কনভেনশন সেন্টারের হলঘরে করতালির মাঝেও এক অন্য ছবি ধরা পড়ল। নিজের নাম শুনেই আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী। চোখ ছলছল করে উঠল সেই লড়াকু নেতার, যিনি এক দশক আগে তৃণমূলের ঘর ছেড়ে একার কাঁধে মেদিনীপুর থেকে পাহাড়—বিজেপিকে টেনে নিয়ে গেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত ধরে শুভেন্দু জানালেন, 'এই জয় আমার নয়, এই জয় বাংলার সেই সাধারণ মানুষের যারা পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন।' আবেগ আর আভিজাত্যের মিশেলে শুভেন্দুর এই অভিষেক বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত।
শুভেন্দু অধিকারীই যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসতে চলেছেন, তার আভাস ছিল আগেই। ছাব্বিশের ভোটে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর – জোড়া কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয় এবং সর্বোপরি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার তো তিনিই! শুধু তো তাই নয়, ২০২০ সালে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে নিরন্তরভাবে লড়াইয়ের ময়দানে থেকেছেন কাঁথির অধিকারী পরিবারের দ্বিতীয় পুত্র। সংগঠন থেকে শুরু করে দলীয় কর্মীদের নতুন করে চাঙ্গা করা, সেইসঙ্গে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনবরত সমন্বয় সাধন – শুভেন্দুর এত পরিশ্রমের ফসলেই আজ বিজেপির বঙ্গবিজয়।
এসবের পুরস্কার স্বরূপ তাঁকেই আগামী ৫ বছরের জন্য বাংলা শাসনের ভার দিলেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু সতীর্থ। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হচ্ছেন এ রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে বাংলা। এখনও তাঁদের নাম জানা যায়নি।
শুক্রবার এই ঘোষণার পর নতুন সরকার গঠনের জন্য লোকভবনে যাবেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই ২০৭ আসন জিতে অর্থাৎ দুই তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপালের অনুমতি প্রয়োজন। ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে মতবিরোধের জেরে তৃণমূল ছাড়েন শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলের মত, মতবিরোধ তো শব্দমাত্র। শুভেন্দুর দল ছাড়ার আসল কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে শুভেন্দুকে সরিয়ে অভিষেককে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা, বঙ্গজুড়ে তৃণমূলের বিস্তারে নিজেকে নিয়োজিত করা শুভেন্দু মেনে নিতে পারেননি।
