
কলকাতা, ২৩ আগস্ট : সাল ১৯৫৮, ২৭ সেপ্টেম্বর। সপ্তম বারের চেষ্টায় চোদ্দো ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট সাঁতার কেটে ৮০ জনের মধ্যে ১৯ জন সেদিন ফ্রান্সের তীরে পৌঁছতে পেরেছিলেন। এঁদেরই মধ্যে ছিলেন মিহির সেন। সেদিন মিহির সেন ভোরে ফ্রান্সের তীরে পৌঁছে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরে ইংলিশ চ্যানেলের গর্জন ছাপিয়ে গেয়ে উঠেছিলেন জাতীয় সঙ্গীত। শুধু তার কাছেই নয়,সমগ্র ভারতবাসীর কাছে সেই দিনটা ছিল খুবই গর্বের
১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তার এই কৃতিত্বের জন্য তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। কিন্তু মিহির সেন এখানেই থেমে যাননি। সেদিন থেকেই মিহির সেন সাত সমুদ্র পার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। আর যার নাম দিয়েছিলেন ‘অপারেশন সেভেন সিজ়’। তার সেই স্বপ্নেরই ফল ১৯৬৬ সালে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যবর্তী জলপ্রণালী যা ‘পক স্ট্রেট’ নামে খ্যাত, সেই প্রণালী সাঁতরে পার হওয়া। এই অভিযানের জন্য নৌবাহিনীর একটি বোট ভাড়া করার অর্থটা মিহির সেন জোগাড় করতে পারেননি। সেই অর্থটা পাওয়ার জন্য তিনি ইন্দিরা গাঁধীকে চিঠি লেখেন। ইন্দিরা গান্ধী সেই টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৬৬-র এপ্রিল মাসের ৫ ও ৬ তারিখে টানা পঁচিশ ঘণ্টা ছত্রিশ মিনিট সাঁতার কেটে তিনি পক স্ট্রেট পার হয়েছিলেন।
এই সাফল্য মিহির সেনকে আরো অদম্য করে তুলেছিল। তিনি ওই বছরেরই আগস্টের ২৪ তারিখ ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী ‘স্ট্রেট অব জিব্রাল্টার’ বা জিব্রাল্টার প্রণালী পার হন আট ঘণ্টা এক মিনিট সাঁতার কেটে। মিহির হলেন প্রথম এশিয়াবাসী তথা ভারতীয়, যিনি এই সাফল্য পেয়েছেন।
এর পর সেপ্টেম্বরে তিনি হাজির হন উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের ‘ডারডেনেলস’- প্রাচীন জলপ্রণালীর তীরে। এই প্রণালী এশিয়া মাইনরের সেডুলবাহির ও ইউরোপের গাল্লিপোলি উপদ্বীপের এক প্রাকৃতিক জলপ্রণালী, যা এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থল। চল্লিশ মাইল লম্বা এই প্রণালী মিহির পার হন ১৯৬৬র ১২ সেপ্টেম্বর, ১৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সাঁতার কেটে।
তাঁর জীবনের এই সব অবিশ্বাস্য সাফল্য গিনেস বুকে নথিবদ্ধ হয়ে রয়েছে।তাকে সম্মান জানাতে ১৯৬৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান দেয়। তাঁর এই সাফল্যের কথা ‘অনারেবল সোসাইটি অব লিঙ্কন ইন’এর ‘ব্ল্যাক বুক’-এ আজও নথিভুক্ত রয়েছে। যা এক বিরল সম্মান।
