
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্ল্যামার জগতের আলো-আঁধারিতে ব্যক্তিগত মুহূর্তও প্রায়শই জনসমক্ষে উঠে আসে। তারকাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেমন নজরে থাকে, তেমনই তাঁদের শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয় চুলচেরা বিশ্লেষণ। এবার সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন অভিনেত্রী পত্রলেখা।
গত বছর নভেম্বর মাসে মা হয়েছেন পত্রলেখা ও তাঁর স্বামী রাজকুমার রাও। তারকাদম্পতির সংসার আলো করে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে কন্যাসন্তান। রাজকুমার বর্তমানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিকের শুটে ব্যস্ত থাকলেও পত্রলেখা আপাতত চুটিয়ে মাতৃত্ব উপভোগ করছেন। নতুন জীবনের এই অধ্যায় উপভোগ করার মাঝেই সম্প্রতি পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে অভিনেত্রীর পরিবর্তিত শারীরিক গঠন। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। একাংশের কটাক্ষ—‘মা হওয়ার পর চেহারার কী হাল! এত্ত মোটা হলেন কীভাবে?’ এহেন নানা কটাক্ষবাণ ধেয়ে আসতেই পালটা জবাব কষিয়েছেন রাজকুমারপত্নী।

তবে চুপ করে থাকার মানুষ নন পত্রলেখা। সরাসরি ট্রোলারদের জবাব দিয়ে তিনি জানান, “সদ্য মা হয়েছি। হ্যাঁ, আমার ওজন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আপনাদের মন্তব্য পড়ে তো মনে হচ্ছে, এই বিষয়টা আপনাদের কাছে খুবই অস্বাভাবিক। না, আমি বাড়িতে বসে বসে কোনও পাহাড় খেয়ে নিইনি। একদিকে সন্তানের জন্ম দিয়েছি। সঙ্গে আবার দু’টি ছবির প্রযোজনাও করেছি। এগুলো খুব একটা সহজ কাজ বলে মনে হয় না আমার। এর মধ্যে ওজন ঝরাতে পারলে কি আমি সেটা করতাম না? সকলে একটু নমনীয় হয়।”
পত্রলেখার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের আরও দুই পরিচিত মুখ—নেহা ধুপিয়া এবং উরফি জাভেদ। নেহা, যিনি নিজেও দুই সন্তানের মা, স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন— “অবিলম্বে কারও শারীরিক গড়ন নিয়ে মন্তব্য করা বন্ধ করুন। বিশেষত একজন সদ্য মা হওয়া নারীর ক্ষেত্রে। যিনি নিজের শরীরের ভিতর আরেকটি প্রাণকে বড় করে তুলেছেন এবং নিজের সর্বস্ব দিয়ে সেই প্রাণের পরিচর্যা করছেন। আমাদের বিচার করার আগে, আপনারা বরং নিজেদের মানসিকতা শুধরে নিন।” অন্যদিকে উরফি জাভেদও কটাক্ষকারীদের উদ্দেশে বলেন, “হে ঈশ্বর! আপনাদের সমস্যাটা কী বলুন তো? এটা তো একদম সাধারণ একটা বিষয়। সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য একজন নারীর ওজন বাড়ার বিষয়টি অপরিহার্য। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর কেন শরীর ছিপছিপে দেখাচ্ছে না- শুধুমাত্র একারণে নারীদের কটূক্তি করা বা ‘বডি শেম’ করা বন্ধ করুন। এসব কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ একদিকে পত্রলেখা যখন নতুন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তখন সন্তান প্রসব পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক ধকলও পোহাতে হচ্ছে তাঁকে। এরপরও সোশাল মিডিয়ার কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। যাদের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের এবিষয়ে মতামত দেওয়ারও কোনও অধিকার নেই। মুখ বন্ধ রাখুন!” সমাজে ‘বডি শেমিং’-এর মতো প্রবণতা যে এখনও প্রবল, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। তবে পত্রলেখা ও তাঁর সমর্থনে সরব তারকাদের বক্তব্য একটাই—মাতৃত্ব কোনও বিচার্যের বিষয় নয়, বরং সম্মানের।

