
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় সাড়ে তিন দশকের সঙ্গীত জগৎ কেরিয়ারে বলিউড এবং দক্ষিণী সিনেমার সীমানা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের সঙ্গীতের মাধ্যমে স্থান করে নিয়েছেন এআর রহমান। হিন্দি, দক্ষিণী এবং হলিউডি সিনেমার পাশাপাশি অস্কারজয়ী এনার্জি অর্জন করেছেন তিনি। যিনি “বন্দেমাতরম” থেকে শুরু করে দেশের মানুষের হৃদয়ে সুরের মূর্ছনা দিয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন, সেই শিল্পী সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এআর রহমান দাবি করেছেন, বিগত আট বছরে এক-এক করে বহু কাজ হারিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ‘মাদ্রাজ মোজার্ট’ যে বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রিতে বেশি কাজ করছেন, বছরখানেক ধরেই এমন ত্বত্ত্ব চর্চায়। কিন্তু কেন? এবার নেপথ্যের কারণ ফাঁস করলেন খোদ মিউজিক মায়েস্ত্রো। অস্কারজয়ী শিল্পীর মন্তব্য, “ক্ষমতার বদল হওয়ার পর থেকেই গত আট বছরে বলিউডে কাজের সুযোগ কমেছে। কারণ ক্ষমতা এখন তাঁদের হাতেই রয়েছে, যাঁরা সৃজনশীল নন। আবার ধর্মীয় বিভাজনের কারণও হতে পারে। যদিও একথাগুলো কেউ আমার মুখের উপর বলেনি, তবে আমার কানাঘুষো শোনা।” এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়াল বলেন,“রহমানের অভিযোগের সঙ্গে আমি একেবারেই একমত নই। এই ধরণের অভিযোগে কোনও সত্যতা নেই। হিন্দি সিনেদুনিয়ায় সলমন খান, শাহরুখ খান, এবং আমির খান-সহ মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক শিল্পী রয়েছেন, যাদের শুধু মহারাষ্ট্র কেন সারা ভূ-ভারতের মানুষ ভালোবাসেন।” অপরদিকে বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র কুমার গোথওয়াল বলেন, “যদিও বিষয়টা সিনেদুনিয়ার, তবে আমার মনে হয় বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বচ্ছভাবে কাজ করা হচ্ছে। আগে প্রায়ই কিছু নেতার সুপারিশে শিল্পীরা কাজ পেতেন। তবে এখন কোনও কারসাজি চলে না। বরং প্রতিভার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হচ্ছে।” বিধায়কের দাবি, “এহেন পরিবর্তনগুলোর কারণেই রহমান হয়তো অস্বস্তিবোধ করছেন।” মুখ খুলেছেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ ভাষাও। রহমানের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “রহমান বলছেন যে, তিনি বিজেপি সরকারের অধীনে নাকি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। কিন্তু এটা মোটেই সত্যি নয়। নইলে ১৯৯২ সাল থেকে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’র মতো বড় হিট দিতে পারতেন না। এবং সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই ২০২২ সালে সেরা সঙ্গীতের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।” সর্বোপরি, এআর রহমানের বলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ধর্মীয় বিভাজন ও ক্ষমতার প্রভাবের দাবিতে শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। শিল্পী ও রাজনীতির মধ্যে এই দ্বন্দ্ব এখন সকলের নজরে।
