
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিতর্কের ঝড় থামার নাম নেই। শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে ছিল আর্টিস্ট ফোরাম—কেন প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে সরব হন একাধিক শিল্পী। অবশেষে চাপে পড়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় ফোরাম। শুক্রবার রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়, শনিবার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার নামে এফআইআর করা হবে। রিজেন্ট পার্ক থানায় এই অভিযোগ জানাবে আর্টিস্ট ফোরাম, দাবি—রাহুলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
তবে এই সিদ্ধান্তেও শান্ত নন অভিনেতা জীতু কমল। প্রথম থেকেই এই ঘটনায় সোচ্চার জীতু, আবারও ফোরামের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বহুবার সমস্যা জানানো সত্ত্বেও ফোরাম কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জীতু লেখেন, “যে চলে গেছে, তাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না—এটা যেমন সত্যি, তেমনই শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফোরামের উদাসীনতাও বাস্তব।” তিনি আরও জানান, শুটিং চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লেও উপস্থিত ফোরাম সেক্রেটারি কোনও ব্যবস্থা নেননি।
অভিনেতার দাবি, কয়েক মাস আগেও শুটিং সেটে খারাপ পরিবেশের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। সুস্থ হয়ে ফেরার পরেও একই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে শুটিংয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। জীতুর কথায়, তাঁর অভিযোগ ফোরামে জানানো হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁর আশঙ্কা, যদি সেই সময় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হত, তবে হয়তো আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। এই ঘটনার পর শিল্পী মহলে প্রশ্ন উঠছে—শুটিং সেটে নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আর কতদিন অবহেলা চলবে? এখন দেখার, এফআইআর দায়েরের পর তদন্ত কতদূর এগোয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
