
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় একের পর এক অঘটনে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যু ও তরুণ অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়-এর অকাল প্রয়াণের পর ফের নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন পরিচালক-চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়। গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ তিনি।
এই ঘটনার মধ্যেই ব্যক্তিগত শোকেও ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। সম্প্রতি মা দীপালি চক্রবর্তীকে হারানোর যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সহকর্মীর অন্তর্ধানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে উৎসবের খোঁজ জানতে চেয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশি তদন্ত কতদূর এগোল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির ভূমিকা কী। সুদীপ্তার প্রশ্ন, “উৎসব মুখোপাধ্যায়ের কি কোনও খোঁজ পাওয়া গেল? পুলিশ কী করছে? কেউ বলতে পারেন? লেখক বা পরিচালকদের সংগঠনের কি সদস্য ছিল উৎসব? যদি হয়েই থাকেন, তাহলে তাঁরা কি উদ্যোগ নিতে পারেন এই বিষয়ে?”
পরিচালকের স্ত্রী মৌপিয়ার কথা ভেবেও উদ্বিগ্ন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। অভিনেত্রী বলছেন, “কেমন যেন মনে হচ্ছে, ওর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী একা পড়ে গিয়েছেন। আমার সঙ্গে তাঁর আলাপ নেই, তবু মনে হচ্ছে এই সময়ে আমাদের তাঁর পাশে থাকা দরকার। উৎসবের লেখা এবং পরিচালনায় দুটো সিনেমায় অভিনয় করেছি আমি- ‘হাফ সিরিয়াস’ এবং ‘ভীতু’। বহুদিনের সম্পর্ক। পারিবারিক বন্ধুত্ব। আমাদের পরিবারের সব ক’টা বাচ্চার সঙ্গে দারুণ ভাব ছিল ওঁর। মায়ের সঙ্গেও আড্ডা দিত। যদিও ইদানিং বিশেষ যোগাযোগ রাখত না। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল, কেন জানি না! কী হল ওর? কোথায় গেল? উৎসবের অন্তর্ধানের কিনারা হোক তাড়াতাড়ি। আর পারা যাচ্ছে না! শোক আর শক্ নেওয়ারও একটা সীমা থাকে!”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে অন্য একটি সাধারণ ফোন নিয়ে বেরিয়েছিলেন উৎসব। দুপুরের পর থেকে সেই ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। শেষ ট্র্যাকিং লোকেশন হিসেবে বিধাননগরের কথা জানা গেলেও, এরপর আর কোনও সূত্র পাওয়া যায়নি। উৎসবের স্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যাংকের কাজ সেরে এক প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তাঁর। সেই সূত্র ধরেও খোঁজ চালানো হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানায় খবর পাঠিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে, উৎসবের সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। সুদীপ্তা চক্রবর্তী জানান, উৎসবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তাঁর কথায়, এই কঠিন সময়ে উৎসবের স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন সকলের। টালিগঞ্জে একের পর এক দুঃসংবাদে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিল্পী মহল। এখন সকলের একটাই প্রার্থনা—শীঘ্রই যেন উৎসব মুখোপাধ্যায়ের খোঁজ মেলে এবং এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
