
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: CEC জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর বিরুদ্ধে ফের সরব বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার বিহারের পাটনায় লোকভবন অভিযানের ডাক দিয়ে পথে নামেন তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিল লোকভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশি ব্যারিকেডে বাধা দেওয়া হয়।ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তথা RJD নেতা তেজস্বী যাদব। এরপর তাঁকে আটক করে পুলিশ। একইসঙ্গে RJD সাংসদ মিসা ভারতী এবং VIP প্রধান মুকেশ সাহনিকেও আটক করা হয়। SIR-এর বিরোধিতায় বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে পাটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল।
বিহারে বিরোধী জোটের এই মিছিলের মূল দাবি ছিল CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং SIR নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবদিহি। রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্যই রাজভবন অভিযানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। পাটনায় লোকভবনের বহু আগে থেকেই একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয় এবং প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
প্রত্যাশামতোই মিছিল আটকাতেই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েন তেজস্বী যাদবও। সেখানেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয় বলে রিপোর্ট। পরে তেজস্বী, মিসা ভারতী এবং মুকেশ সাহনিকে আটক করে পুলিশ।
তেজস্বী যাদব এ দিন অভিযোগ করেন, SIR-এর জেরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি তুললেও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। একইসঙ্গে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং SIR নিয়ে স্বচ্ছতা আনার দাবি তেজস্বীর।এদিকে, মিছিল চলাকালীন মহাজোটের কয়েকজন নেতা ও কর্মী এক SDPO-র গাড়ির উপর উঠে পড়েন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। VIP প্রধান মুকেশ সাহনি দাবি করেছেন, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময়ে তাঁর আঙুলে চোট লাগে। আরও এক নেতা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁকে লাঠি পেটা করেছে। এর আগে বুধবারও বিহারের ৫৩৪টি ব্লক ও সদর দপ্তরে ‘জ্ঞানেশ হঠাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল মহাজোট। সেই বিক্ষোভ-আন্দোলনের সূত্র ধরেই এ দিনের কর্মসূচি।
