
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি দেশে লোক সভা ভোটের ঠিক আগেই পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স ৪০ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত প্রশ্ন তুলেছেন ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বাজিমাত করতেই বিজেপি সরকার এই ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেনি তো? দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদনে রাউত ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করার দাবি করেছেন।
রাউত সত্যপাল মালিকের এক সাক্ষাৎকারের কথা তুলে ধরে বলেন-" পুলওয়ামা বিস্ফোরণ, ৪০ জন জওয়ানকে হত্যার ষড়যন্ত্র কি রাজনৈতিক ফায়দার জন্য হয়েছিল? আমরা [বিরোধীরা] বারবার সেই সময়ে এই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু শাসক দল বারবার না না অছিলায় 'বিশ্বাসঘাতক' এই তকমা দিয়ে নিরব করে দেওয় হয়।" প্রসঙ্গত, মালিক তার সাক্ষাত্কারের সময় দাবি করেছিলেন যে সিআরপিএফ তাদের কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমান চেয়েছিল কারণ ২৫০০ জনেরও বেশি কর্মী বহন করার জন্য ৭৮টি গাড়ির একটি বৃহৎ কনভয়ের প্রয়োজন যা খুবই বড়ো ব্যাপার ছিল।প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা কর্মীরা সাধারণত পুলওয়ামা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন না।তবুও কেন জওয়ানদের যায়ায়াতের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করা হয়েছিল? কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আরডিএক্স পুলওয়ামায় পৌঁছেছে তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,কেন কনভয়কে কোনও বিমান সহায়তা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন মালিক।
বিরোধীরা পুলওয়ামা নিয়ে সরব হলেই বার বার বিরোধীরা চুপ থেকেছে।তবে রাউত মনে করেন সত্য পাল মালিকের এই সাক্ষাৎকার গেরুয়া শিবিরকে পুলওয়ামার ঘটনায় অস্বস্থিতে ফেলতে পারে।মেহুল চোকসি এবং বিজয় মালিয়ার মতো অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে ও সরব হয়েছেন সঞ্জয়। সম্প্রতি বিজেপি শিবিরের পৃষ্ঠপোষক গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রাউত দাবি করেছেন যে বিজেপি বিরোধীদের শ্বাসরোধ করার চেষ্টায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে। ইডি সিবিআই কে কাজে লাগিয়ে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টিকে ভাঙার চেষ্টা করছে। আপ, আরজেডি,তৃনমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৬ এপ্রিল নাগপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেগা মহা বিকাশ আঘাদি সমাবেশে বক্তৃতা পেশ করার আগে রাউত বলেন-"আমাদের পথে যত বাধাই আসুক না কেন, এমভিএ ভবিষ্যতে নাগপুরে শুধু বড় নির্বাচনই নয়, নাগরিক এবং স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনেও জয়ী হবে।"
