
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:পুরনো মিগ যুদ্ধবিমানগুলির অবসরের পর ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে আধুনিক যুদ্ধবিমানের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী চিন ও পাকিস্তানের সামরিক অগ্রগতিও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চিনে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানে পাকিস্তানি পাইলটদের প্রশিক্ষণ চলছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের বিমান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসলামাবাদের।এই প্রেক্ষাপটে আকাশসীমার সক্ষমতা বাড়াতে ৪.৫ প্রজন্মের ১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। ইতিমধ্যেই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্সের কাছে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, তা হবে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তি। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল্যায়ন করেছে প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ‘সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় পর্ষদ’ (‘ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড’ বা ডিআরবি)। তারা ছাড়পত্রও দিয়ে দিয়েছে। এরপর রীতি মেনে যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ‘প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ’ বা ‘ডিএসি’। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুরোধপত্র’ বা ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা পাঠানো হবে ফ্রান্সে।
জানা যাচ্ছে, এই মেগা চুক্তিতে ভারতের তরফে ফ্রান্সের কাছে বড়সড় দাবি রাখা হয়েছে। তা হল, এই রাফালে যুদ্ধ বিমানগুলিতে ৫০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম রাখতে হবে। যার অর্থ হল, বিমানটির রাডার, অস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের অর্ধেক অবশ্যই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ হতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্স এই শর্ত মানতে রাজি হয়েছে এবং তারা তাদের বৈশ্বিক উৎপাদনে ভারতীয় সংস্থাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বিবেচনা করছে। জানা যাচ্ছে, ১১৪টি রাফালে বিমানের মধ্যে ২৪টি ফ্রান্স থেকে তৈরি হয়ে ভারতে আসবে, বাকি ৯০টি যুদ্ধবিমান ভারতের মাটিতেই তৈরি করা হবে।
প্রসঙ্গত, এক দশক আগে ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে রাফাল চুক্তির সময়ই বায়ুসেনা জানিয়েছিল, তাদের দরকার ১২৬টি যুদ্ধবিমান। কিন্তু সেই সময় ফরাসি সংস্থা রাফালকে বরাত দেওয়া হয় ৩৬টি যুদ্ধবিমান। অন্য দিকে, ধাপে ধাপে মিগ-২১, মিগ-২৩ বাতিল হওয়ায় ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের ভাঁড়ারে সংখ্যার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র ৩৬টি রাফাল বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড’(হ্যাল) তৈরি তেজসের নয়া সংস্করণ ‘মার্ক-১এ’-র সাহায্যে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে ধাপে ধাপে ‘তেজস মার্ক-১এ’ তুলে দেওয়ার কথা ছিল এইচএএল-এর। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় দুই বছর হলেও এখনও পর্যন্ত একটিও বিমান আনুষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনার অনুমোদিত স্কোয়াড্রন সংখ্যা ৪২টি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩২-এ, ফলে আকাশ প্রতিরক্ষায় ঘাটতি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নতুন কৌশল নিচ্ছে।
ফ্রান্সের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তিতে রাফাল যুদ্ধবিমান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ নিয়েও আগ্রহ দেখা দিয়েছে নয়াদিল্লির। জানা যাচ্ছে, এসইউ-৫৭-এর এক্সপোর্ট ভার্সন নিয়ে যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাবও মস্কো দিয়েছে, যা নিয়ে আলোচনা চলছে প্রতিরক্ষা মহলে।
