
হল্দওয়ানি, ৯ ফেব্রুয়ারি : সরকারি জমি থেকে বেআইনি জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে হিংসায় অশান্ত হয়ে উঠল উত্তরাখণ্ডের হল্দওয়ানি। হল্দওয়ানির বনভুলপুরায় হিংসায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের এডিজি আইন ও শৃঙ্খলা এপি অংশুমান। হিংসার ঘটনায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। নৈনিতাল জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, আপাতত স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে গোটা রাজ্যে। আদালতের নির্দেশে বনভুলপুরা এলাকায় সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গেলে দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা মাফিক হামলা চালায়। হামলা হয় নিকটবর্তী পুলিশ ফাঁড়িতেও। সেখানে জ্বালানো হয় আগুন। বহু যানবাহনেও দুষ্কৃতীরা আগুন লাগিয়ে দেয়।
"অবৈধভাবে নির্মিত" একটি মাদ্রাসা ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে হিংসার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার। ক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি, বাইকে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। এই হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের ও হিংসা থামাতে গিয়ে শতাধিক পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। ওই এলাকায় জারি রয়েছে কারফিউ। এই হিংসার ঘটনায় শুক্রবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন নৈনিতালের জেলাশাসক বন্দনা সিং।
তিনি বলেছেন, "হাইকোর্টের নির্দেশের পরে হল্দওয়ানির বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাইকে নোটিশ এবং শুনানির জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন, কাউকে সময় দেওয়া হয়েছিল, আবার কাউকে সময় দেওয়া হয়নি। যেখানে সময় দেওয়া হয়নি সেখানে পূর্ত দফতর ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন দ্বারা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল।" জেলাশাসক আরও বলেছেন, "এটি একটি খালি সম্পত্তি, যার দু'টি কাঠামো রয়েছে, যা ধর্মীয় স্থান হিসাবে পঞ্জীকরণ নয় অথবা এমন কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ স্থানটিকে মাদ্রাসা বলে।..উচ্ছেদ অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল, প্রতিরোধের জন্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আমাদের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের দলের উপর পাথর ছোড়া হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা ছিল এবং আমাদের টিম কোনও শক্তি প্রয়োগ করেনি।"
