
নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট : বারাণসীর দায়রা আদালতের রায়কেই বহাল রাখল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে ভারতের পুরাতাত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা (আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই)-কে সমীক্ষার কাজ শুরু করার অনুমতি দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায়ে খুশি হিন্দু পক্ষ। হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন বলেছেন, "এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে, "জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে এএসআই বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার কাজ শুরু করতে পারবে। দায়রা আদালতের রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।"
এএসআই-এর সমীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মুসলিম পক্ষ (অনজুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি), মুসলিম পক্ষের সেই আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই সার্ভে হওয়া জরুরি, অবিলম্বে তা ফের শুরু করতে পারবে ভারতের পুরাতাত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা।
এর আগে গত ২৪ জুলাই, বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদে সমীক্ষার কাজ শুরু করে দিয়েছিল ভারতের পুরাতাত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা (আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই)। বারাণসী জেলা আদালতের নির্দেশ মতো ওই দিন সকাল সাতটা থেকে শুরু হয় সমীক্ষার কাজ। মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল কিনা, তা জানতে ‘জ্ঞানবাপী- স্রিঙ্গার গৌরি’ মামলায় বারাণসী জেলা দায়রা আদালত এএসআই-কে এই সমীক্ষার নির্দেশ দেয়। কিন্তু, সেই সমীক্ষার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মুসলিম পক্ষ। ওই দিনই বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদে এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানায়, ২৬ জুলাই বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে ভারতের পুরাতাত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা (আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই) কোনও সমীক্ষা করতে পারবে না। অবশ্য মুসলিম পক্ষকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে ভারতের পুরাতাত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা সমীক্ষার কাজ শুরু করতে পারবে। একইসঙ্গে মুসলিম পক্ষের আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় শোনার পর বারাণসীর জেলাশাসক এস রাজালিঙ্গম বলেছেন, "এএসআই আগামীকাল থেকে (জ্ঞানবাপী মসজিদ কমপ্লেক্সের) সমীক্ষা শুরু করতে জেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আমরা তাঁদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করব। আমাদের নিরাপত্তা স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।"
জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায়ে কেউ খুশি-কেউ আবার হতাশ। উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেছেন, "আমি এই রায়কে স্বাগত জানাই। আমি নিশ্চিত এএসআই সমীক্ষার পরে সত্য বেরিয়ে আসবে এবং জ্ঞানবাপী সমস্যার সমাধান হবে।"
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ এস টি হাসান বলেছেন, "আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে চলব, বর্তমানে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির প্রয়োজন। এমন কোনও বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় যা দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।"
এআইএমপিএলবি সদস্য মৌলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহালি বলেছেন, "ন্যায়বিচার হবেই, এই বিষয়ে আমি আশাবাদী। এই মসজিদটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরানো এবং মুসলিমরা সেখানে বিগত ৬০০ বছর ধরে নামাজ আদায় করে আসছেন। আমরাও চাই যে দেশের সমস্ত উপাসনালয়ে উপাসনালয় আইন বলবৎ করা হোক।" মুসলিম পক্ষ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।"
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আব্দুল্লাহ বলেছেন, "মন্দির হোক অথবা মসজিদ, ভগবান একই। আপনি ঈশ্বরকে মন্দিরে অথবা মসজিদে দেখতে পারেন। বিজেপি সাংসদ ও প্রবীণ অভিনেত্রী হেমা মালিনী বলেছেন, "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্ত আসা উচিত, অন্যথায় আলোচনা চলতেই থাকবে। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে দেশের জন্য ভালো হবে।”
