
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ নির্মাণ ও রেল-জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু করেছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক স্টেশনে ঝুপড়ি ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান ও ‘বুলডোজার নীতি’র প্রতিবাদে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২১ মে ফলতার পুনর্নির্বাচনের দিনই হাওড়া, শিয়ালদহ ও বালিগঞ্জ এলাকায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে।
আজ কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “হকারদের দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার আমাদের সাংবিধানিক আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।” সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে বৈঠকে অভিযোগ করেন মমতা। বিধায়কদের তিনি আরও বলেন, আগামীদিনে কেন্দ্র থেকে ক্ষমতাচ্যুত হবে বিজেপি।
অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মমতার সমালোচনার পরেই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল। জানা গিয়েছে, ২১ মে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন ও বালিগঞ্জের কাছে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হবে। উল্লেখ্য, সেদিনই ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচনের একদিন আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। দলের প্রার্থীর এই সিদ্ধান্তে মুখ পুড়েছে তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিনই অবৈধ নির্মাণ ও দখলদার হটাতে রাজ্য সরকারের নীতির প্রতিবাদ করে পথে নামতে চলেছে তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, মানুষের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ করে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা হয় আজও। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রতিবাদ করে উঠে আসা এই দলকে আর প্রতিবাদের ময়দানে দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যে পালাবদলের পর অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পর পর অভিযান চালানো হলেও কোনও তৃণমূল নেতাকেই প্রতিরোধ গড়তে দেখা যায়নি। রাজ্যে প্রথম তিলজলায় বেআইনি কারখানা ভাঙার জন্য বুলডোজার নামে। সেখানে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষকে ময়দানে নেমে প্রতিবাদ করতে দেখা গেলেও তৃণমূলের কোনও নেতাকেই পথে দেখা যায়নি। তিলজলায় বুলডোজার চলার পর রাজ্যের একাধিক জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়েছে, রেলের জমি থেকে দখলদার উচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিবাদে নামতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে। কিন্তু দেরি করে হলেও সেই প্রতিবাদের উপরই ভরসা রাখছে দল। যদিও এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দলের কোন নেতৃত্বকে সামনের সারিতে দেখা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
