Breaking News
 
RG Kar case : আর জি কর মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, সাসপেন্ড বিনীত গোয়েল ও আরও ২ পুলিশ আধিকারিক Mamata Banerjee And suvendu Adhikari:‘খতিয়ে দেখা হবে’,আর জি কর মামলায় মমতাকেও তদন্তের আওতায় আনার ইঙ্গিত শুভেন্দুর Suvendu Adhikari :জেলের ভিতরে স্মার্টফোন কাণ্ডে তোলপাড়, প্রেসিডেন্সির সুপার সাসপেন্ড, ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙার বার্তা WB budget session :১৮ জুন থেকে বাজেট অধিবেশন, জনমুখী প্রকল্পে বড় ঘোষণার জল্পনা তুঙ্গে Rahul Gandhi’s foreign trips :বিদেশ সফর নিয়ে রাহুলকে আক্রমণ বিজেপির, কংগ্রেসের দাবি ‘আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা’ Janatar Darbar :যোগী মডেলে বাংলায় ‘জনতার দরবার’, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

 

Entertainment

58 minutes ago

Tollywood Clash: সায়নী বনাম জীতু! টলিপাড়ায় বিস্ফোরক বাকযুদ্ধ, মাঝরাতে প্রাক্তন নবনীতার সঙ্গে লাইভে অভিনেতা

Jeetu Kamal Sayani Ghosh controversy
Jeetu Kamal Sayani Ghosh controversy

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার টলিপাড়ার অন্দরে প্রকাশ্যে এল আরেক দফা বাকযুদ্ধ। একসময় পর্দায় একসঙ্গে কাজ করা অভিনেতা জীতু কমল এবং অভিনেত্রী-সাংসদ সায়নী ঘোষ-এর সম্পর্ক এখন কার্যত তলানিতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন দুই তারকা। পরিচালক অনীক দত্ত-র ছবি ‘অপরাজিত’-তে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন জীতু ও সায়নী। সেই সময়ের বন্ধুত্ব এখন অতীত। সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব এবং তথাকথিত ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ লবির বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খুলেছিলেন জীতু কমল। সেই মন্তব্যের জেরেই শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেন সায়নী ঘোষ। 

সায়নীর দাবি, বছর দুয়েক আগে বিরাটির ঘটনার দিন জীতু থানায় গিয়ে ‘আমি কে জানেন?’ বলে দাদাগিরি করেছিলেন। সেকথা মনে করিয়েই সায়নী বলেন, “আপনি এবং আপনার প্রাক্তন স্ত্রী একটি সমস্যায় পড়ে আমাকে থানা থেকে ফোন করেন, তখন আমি সাংসদও নই। আপনার প্রথম দাবি ছিল যে আপনার মতো বড় মাপের সেলিব্রিটিকে কেন এতক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়েছে। আপনি থানায় ঢোকার থেকেই পুলিশদের সাথে ‘তোমরা জানো আমি কে?’ ধরণের অসভ্যতা করে চলেছিলেন। ‘হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা’ জাতীয় অনেক ডায়লগ মারছিলেন কিন্তু আপনার স্ত্রী চিন্তায় ছিল। সুরক্ষা নিশ্চিত না করা অবধি আপনাকে বলেছিলাম রাস্তার লুম্পেনদের সাথে ঝামেলায় না জড়াতে। প্রেস ডেকে বিশৃঙ্খলা না করে যা করার, যাদের বিরুদ্ধে করার সেটা আইনিভাবে করা উচিত। তাও আপনি ফুটেজ খাওয়ার জন্য মিডিয়া ডাকেন। আপনার হয়তো মনে নেই সেদিন এই সায়নী ঘোষ ওসির সাথে কথা বলে দ্রুত আপনাকে সবর্তোভাবে সাহায্য করার আর্জি জানিয়েছিল।” এখানেই শেষ নয়! 

এরপরই জীতুকে নিশানা করে সায়নীর কটাক্ষ, “আপনি আদতে একজন সুবিধাবাদী। মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, যারা সুযোগ দিয়েছে তাদের পরবর্তীকালে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া, দুঃসময়ে যারা পাশে থেকেছে তাদের ছেড়ে চলে যাওয়া, প্রোডিউসার, ডিরেক্টর, টেকনিশিয়ান, মেক আপ ম্যান, হেয়ারড্রেসারদের কাছ থেকে ‘অপরাজিত’র সাফল্যের পরে আপনার রাতারাতি বদলে যাওয়ার বহু গল্প শুনেছি। আপনার সহকর্মীরাও আপনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বলেছেন। একটা বিষয় স্পষ্ট যে রাজনৈতিকভাবে আপনার মতো লোকেরা আসলে বামের নীতির কথা বলে, তৃণমূলের খেয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়ে বেঁচে থাকেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, একজন সহকর্মী, একজন বন্ধু হয়ে আমি কার কার জন্য কী কী করি, কতটা করি, কেন করি? তার সার্টিফিকেট আপনার কাছ থেকে অন্তত আমার নিতে হবে না।” 


এরপরই জীতুকে ‘টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত’, বলে তোপ দাগেন সায়নী ঘোষ। অভিনেতাকে কটাক্ষ করে যাদবপুরের তারকা সাংসদের মন্তব্য, “স্রোতে গা ভাসিয়ে আবোল-তাবোল না বলে যেটা আপনার কাজ সেটা করে লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা করুন। নাহলে ক্যামেরা দেখেই উলটোপালটা বলতে বলতে হঠাৎ কখন টলিউডের ‘কঙ্গনা রানাওয়াত’ হয়ে যাবেন, ধরতে পারবেন না। যদিও কঙ্গনার অভিনয় দক্ষতা অসাধারণ এবং আপনিও একজন গুণী শিল্পী। কিন্তু বেলা অনেকটা বয়ে গিয়েছে, এবার নিজেকে সত্যজিৎ রায় ভাবাটা বন্ধ করুন।”

অন্যদিকে, এই ‘কুকর্ম সংক্রান্ত’ অভিযোগের পরই বিয়ে ভাঙার আড়াই বছর বাদে শুক্রবার রাত ২টোয় প্রথমবার প্রাক্তন নবনীতার সঙ্গে একফ্রেমে হাসিমুখে ধরা দেন জীতু। আর কোথায় দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভ করলেন, না কেন্দুয়া শান্তি সংঘের সামনে। যেখানে সায়নীর মুখের আদলে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়েছিল। যাদবপুরের তারকা সাংসদ তথা সহ-অভিনেত্রীর দাবি ভুল প্রমাণিত করার জন্য সেখানে দাঁড়িয়েই চূড়ান্ত আক্রমণ শানালেন জীতু। পাশেই ছিলেন প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা। ‘অপরাজিত’ অভিনেত্রীকে বিঁধে অভিনেতার মন্তব্য, “ঘোষ মহাশয়া (সায়নী ঘোষ) দাবি করেছেন, আমি নাকি নবনীতার সঙ্গে দিনের পর দিন কুকর্ম করেছি! বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই একটা নোংরা ট্রেন্ড রয়েছে যে, কেউ ডিভোর্স করলেই একজন অন্যজনকে নিয়ে খোঁচা মারে, কাদা ছেটায়। কিন্তু আমরা এই নোংরা রাজনীতি, খোঁচার ঊর্ধ্বে উঠে সমাজকে দেখিয়ে দেব যে, ডিভোর্স হওয়ার পরেও আজীবন খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকা যায়।” শুধু তাই নয়, পরোক্ষভাবে কেন্দুয়া শান্তি সংঘের পুজোয় সায়নীর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তোলেন জীতু কমল। যা শুনে নবনীতা বলেন, “খোঁচা নয়, এই পুজো সার্বজনীন। সকলের পুজো। কারও একার নয়।” অভিনেত্রীর মন্তব্যেই স্পষ্ট যে তিনি স্রেফ, প্রাক্তনের বিরুদ্ধে ওঠা ‘কুকর্মে’র অভিযোগ সরাতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও বছর তিনেক বাদে ফেসবুক লাইভে প্রাক্তন তারকাদম্পতি জীতু-নবনীতাকে দেখে উচ্ছ্বসিত ভক্তমহল। তাঁরা আশাবাদী, আবার হয়তো ভাঙা সংসার জোড়া লাগবে। সেই প্রেক্ষিতেই নেটভুবনের একাংশের প্রশ্ন, ‘ভিলেন’ হয়ে সায়নী ঘোষই কি জীতু-নবনীতাকে মেলালেন?  

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে নবনীতার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন জিতু কমল। সমস্ত কিছু ঠিকই ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ছবি-ভিডিও শেয়ার করেছেন তাঁরা। এর মধ্যেই জিতুর কেরিয়ারে আসে সাফল্য। ‘অপরাজিত’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অভিনেতা। এরপরই তাঁদের দাম্পত্য ‘ইউ টার্ন’ নেয়। চব্বিশ সালে আইনত বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তাঁরা। ব্রেক কে বাদ, এবার ফের একফ্রেমে ফেসবুক লাইভে এলেন।


You might also like!