
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ গেম থেকে প্রেম , আর তার জেরেই পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করায়,আপাতত সন্দেহের দায়রায় ‘পাক বধূ’ সীমা। তাঁর দাবি, তিনি ভারতীয় প্রেমিক সচিন মিনার টানেই পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে এসেছেন। যদিও তাঁর পরিচয় এবং ভারতে আসার উদ্দেশ্য সন্দেহ জাগাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ এটিএসের মনে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে সীমার যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান করছে এটিএস এবং আইবি।
বিভিন্ন ভাষার উপর সীমার দক্ষতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সন্দেহ জাগছে তদন্তকারী সংস্থাগুলির মনে। নেপালে এসে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য পাকিস্তানে এই ধরনের ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে ভারতীয় প্রান্তিক মহিলাদের পোশাক, চেহারা এবং হাবভাব নিয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন না সীমা। আর সেই কারণেই ভারতে এসে প্রান্তিক ভিড়ে মিশে যেতে তিনি গ্রামীণ মহিলাদের মতো বেশভূষায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তার জন্য নাকি তিনি পেশাদার রূপটান এবং পোশাকশিল্পীদের সাহায্য নিয়েছিলেন। এমনকি, নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়াতে সন্তানদেরও মানানসই পোশাক পরিয়েছিলেন তিনি।
ভিসা ছাড়া নেপালের মাধ্যমে বেআইনি ভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে ৪ জুলাই গ্রেফতার হন সীমা। তাঁকে আশ্রয় দিয়ে গ্রেফতার হন সচিন এবং তাঁর বাবা নেত্রপাল। পরে জামিনে ছাড়াও পান তাঁরা।জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সীমা দাবি করেন, তিনি হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি আর তাঁর পদবি ব্যবহার করবেন না বলেও জানান। তাঁর কথায়, ‘‘সীমা নামটি হিন্দু এবং মুসলমান যে কোনও ধর্মের মেয়েরই হয়। তাই আমি এখন থেকে শুধুই সীমা। অথবা, নিজেকে সীমা সচিন বলে পরিচয় দেব। আমার সন্তানদেরও নাম পরিবর্তন করে রাজ, প্রিয়ঙ্কা, পরি এবং মুন্নি রেখেছি।’’ তিনি এখন প্রতি দিন ঈশ্বরের পুজো করার পর হাত জোড় করে সকলকে নমস্কার করেন এবং বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, হিন্দু ধর্ম গ্রহণের জন্য তিনি নিরামিষ খাবার খাওয়া শুরু করেছেন।
