
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: স্মার্টফোনের এক ছোঁয়ায় এখন হোটেল বুকিং করা যতটা সহজ, ততটাই বেড়েছে প্রতারণার ঝুঁকিও। রঙিন বিজ্ঞাপন, অবিশ্বাস্য ছাড় আর ঝকঝকে ছবির মোহে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে বুকিং সেরে ফেলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে দেখা যায়, ছবির সঙ্গে ঘরের কোনও মিল নেই। কখনও পরিষেবায় ঘাটতি, কখনও লুকোনো চার্জ—ফলে আনন্দভ্রমণই হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্ন। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই এড়ানো যায় বড় বিপদ।
১. হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া উজ্জ্বল ও সুসজ্জিত ছবির ওপর অন্ধবিশ্বাস করবেন না। অনেক সময় লেন্সের কারসাজিতে ছোট ঘরকে বড় দেখানো হয়। বাস্তবের সঙ্গে এই ছবির বিস্তর ফারাক থাকতে পারে।
২. বুকিং করার আগে বিভিন্ন ট্রাভেল পোর্টালে সাধারণ পর্যটকদের আপলোড করা ছবিগুলি খুঁটিয়ে দেখুন। সেখান থেকেই হোটেলের ঘর, শৌচাগার এবং আসবাবপত্রের আসল কঙ্কালসার চেহারাটি স্পষ্ট বুঝতে পারবেন।
৩. ইন্টারনেটে শুধু রেটিং দেখবেন না, মন্তব্যগুলি পড়ুন। অনেক সময় ভুয়া রিভিউ থাকে। তাই সাম্প্রতিক সময়ের অন্তত ৫-১০টি নেতিবাচক ও ইতিবাচক রিভিউ পড়ে নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
৪. বুকিং কনফার্ম করার আগে ছোট অক্ষরে লেখা শর্তগুলি (Terms & Conditions) এড়িয়ে যাবেন না। বাতিল করার নীতি বা রিফান্ড সংক্রান্ত নিয়ম জানা না থাকলে পরে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
৫. অনেক সময় মূল ভাড়ার সঙ্গে সার্ভিস চার্জ, প্রাতরাশ বা ওয়াই-ফাইয়ের খরচ যুক্ত থাকে না। এই খরচগুলি যোগ করলে বাজেট ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই শুরুতেই সমস্ত রকম সুবিধা অন্তর্ভুক্ত কিনা জেনে নিন।
৬. ‘শহরের কেন্দ্রে’ বা ‘সমুদ্রের কাছে’— এমন দাবি যাচাই করতে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় কোনও ভ্রমণ গাইড বই বা ম্যাগাজিন ঘেঁটে দেখে নিলে। অনেক সময় হোটেল নির্জন এলাকায় হয়, ফলে যাতায়াতে বাড়তি সময় ও প্রচুর ট্যাক্সি ভাড়া খরচ হয়ে যায়।
৭. প্রথম যে সাইটে সস্তায় ঘর পাচ্ছেন, সেখানেই বুক করবেন না। অন্তত দুই-তিনটি পরিচিত ওয়েবসাইট এবং হোটেলের নিজস্ব পোর্টালের দাম দেখে নিন। সরাসরি ফোন করে সরাসরি কথা বলে নেওয়াতা সবচাইতে ভালো।
৮. অনলাইন পেমেন্টের আগে ওয়েবসাইটটি নিরাপদ কিনা দেখে নিন। অ্যাড্রেস বারের শুরুতে ‘https://’ এবং একটি তালার চিহ্ন থাকা জরুরি। ভুয়ো লিঙ্কে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা খোয়াবেন না।
৯. বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। এতে জালিয়াতি হলে টাকা ফেরত পাওয়ার বা ট্রানজ্যাকশন ব্লক করার সুবিধা থাকে, যা অনেক সময় ডেবিট কার্ডে পাওয়া যায় না।
১০. বুকিং হয়ে গেলে হোটেলের নম্বরে ফোন করে নিশ্চিত হোন। কনফার্মেশন মেইল বা ভাউচারের একটি ডিজিটাল কপি এবং একটি প্রিন্ট আউট সঙ্গে রাখুন। কোনও সমস্যা হলে এটিই আপনার সুরক্ষা কবচ হয়ে উঠবে।
সচেতনতা এবং সামান্য যাচাই-বাছাই করলেই অনলাইন প্রতারণা এড়ানো সম্ভব। তাই পরের বার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে একটু সময় নিয়ে তথ্য যাচাই করুন। তবেই আপনার ছুটি হবে নিশ্চিন্ত, সাশ্রয়ী এবং স্মরণীয়।
