
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শীত পড়তেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাবু সাধারণ মানুষ। সকাল-সন্ধে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে শহর থেকে গ্রাম। এই পরিস্থিতিতে ঘর গরম রাখতে রুম হিটারই ভরসা অনেকের। কিন্তু চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বাজারে হিটার মিলছে না বললেই চলে। আর যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। তার উপর বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়ার ভয় তো রয়েছেই। ফলে হস্টেলে থাকা পড়ুয়া থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে হিটার ব্যবহার সব সময় সম্ভব হয় না।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সময় ঠান্ডা ঘরে থাকা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সর্দি-কাশি, জয়েন্টের ব্যথা থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বাড়তে পারে। তবে আশার কথা, হিটার ছাড়াও কিছু সহজ ও খরচহীন উপায়ে ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব। একটু সচেতন হলেই শীতের প্রকোপ অনেকটাই কমানো যায়।
১) সমস্ত জানালা সঠিকভাবে বন্ধ করতে হবে। শীতের রাতে জানলার কাচ যেন ভাল করে ল্যাচ দিয়ে বন্ধ করা হয়। বাইরের তাপমাত্রা বাড়ির ভিতরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হলে দিনের বেলা এগুলো খোলা চলতে পারে। জানালা যতটা সম্ভব এয়ার টাইট রাখতে হবে। তবে জানালা এয়ার টাইট না হলে, খুলে ফেলা যায় এমন প্লাস্টিক কেনা চলতে পারে যাতে সেগুলো ভালভাবে আটকে দেওয়া যায়। আর চোখে পরার মতো কোনও ফুটো থাকলে, তার সামনে একটি তোয়ালে বা শার্ট দেওয়া যেতে পারে।
২) সূর্যালোক আসছে এমন জানালার উপরে সস্তা আর স্বচ্ছ শাওয়ার কার্টেন ব্যবহার করতে হবে। এটি ঠান্ডা বাতাসকে বাইরে রাখবে, কিন্তু সূর্যের উষ্ণতা অবিরাম আসবে ঘরে। ফলে ঘরকে ঠান্ডা বাতাস না দিয়ে গরম করবে। এছাড়া পরিষ্কার প্লাস্টিকের চাদর দিয়েও জানালা ঢেকে রাখা যেতে পারে।
৩) ভারী পর্দা লাগাতে হবে। ভারী পর্দার সেট আসলে বাতাসকে আটকে দিতে পারে। কিন্তু সূর্য আকাশে থাকার সময় এদের খুলে রাখতে হবে এবং সূর্য অস্ত গেলে বন্ধ করে দিতে হবে।
৪) দরজা ভাল করে সিল করে দিতে হবে। দরজার ফ্রেমের চারপাশে এবং দরজার নিচে পরীক্ষা করা জরুরি। ওয়েদার স্ট্রিপ বা দরজার নিচে লাগানোর ঝাড়ু বাজারে কিনতে পারা যায়। সেগুলো ভাল কাজ দেবে। আর কিছুই পাওয়া না গেলে দরজার নিচে একটি তোয়ালে ভরে দিলেও কাজ চলে যাবে।
৫) দেখতে হবে, সূর্যের আলো যেন যতটা সম্ভব বাড়িতে এসে পড়ে। বাড়িতে সূর্যের রশ্মি পৌঁছাতে পারে এমন বাধাগুলো (যেমন গাছপালা বা কোনও শেড) ভাল করে পরীক্ষা করতে হবে। বাড়ির রৌদ্রোজ্জ্বল দিকে দেয়ালের সঙ্গে ঝুঁকে থাকা এমন সব জিনিস সরিয়ে ফেলা আদর্শ।
৬) ঘর গরম রাখার জন্য মেঝেতে একটি কার্পেট রেখে দেওয়া কাজে দিতে পারে। কার্পেট মেঝে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া তাপ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এগুলি সাধারণত কাঠ বা পাথরের মেঝের তুলনায় স্পর্শে বেশি উষ্ণ বোধ হয়। তাই হাঁটতেও অসুবিধা হয় না।
৭) সব সময় কিছু লাইট জ্বালিয়ে রেখে দেওয়া যেতে পারে। বাল্ব তার শক্তির ৯৫% পর্যন্ত আলোর পরিবর্তে তাপ হিসাবে প্রকাশ পায়। ফলে একটা বাল্বও একটি অত্যন্ত দক্ষ তাপের উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
