
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রীষ্মের দাবদাহে তরমুজ ও ফুটি প্রায় প্রতিটি বাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। রসাল এই ফলগুলি শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি জলশূন্যতা কাটাতেও দারুণ কার্যকর। কিন্তু ফল খাওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খোসা ফেলে দেওয়া হয়, যা আসলে এক বড় ভুল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজ ও ফুটির খোসাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণ। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময়ে এই উপাদানগুলি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। জেনে নেওয়া যাক এই খোসাগুলি উপকারিত সম্পর্কে৷
* পুষ্টিগুণে ভরপুর: যদিও তরমুজ ও খোসা প্রায়শই বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, তবুও প্রকৃতপক্ষে এগুলি পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ। এগুলিতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ‘সি’ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা হজমশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শরীরকে সক্ষম করে তোলে। নিয়মিত এগুলি গ্রহণ করলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকেও উপশম পাওয়া যেতে পারে।
* ত্বকের জন্য উপকারী: এই খোসাগুলি আপনার ত্বকের যত্নের রুটিনেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। মুখের ওপর আলতো করে ঘষলে এটি এক ধরণের শীতল অনুভূতি প্রদান করে এবং রোদে পোড়া ভাব (ট্যানিং) কমাতে সাহায্য করে। এগুলি ত্বকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এনে দিতে সহায়তা করে এবং গ্রীষ্মের মাসগুলিতে একটি সহজ ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে প্রমাণিত হয়।
* রান্নাঘরে ব্যবহার: তরমুজ এবং ফুটির খোসা দিয়ে নানারকম সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়৷ যেমন- সবজির তরকারি, চাটনি কিংবা আচার। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলি পুষ্টিগুণও প্রদান করে। সঠিকভাবে রান্না করা হলে, এগুলি একটি অনন্য এবং স্বাস্থ্যকর খাবারে রূপান্তরিত হতে পারে।
* শরীরকে আর্দ্র রাখে: এই খোসাগুলিতে জলের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে৷ যা শরীরকে শীতল ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে, শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে এবং সতেজ ভাব বজায় রাখতে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
* গাছের সার হিসাবে ব্যবহার: খোসাগুলি ফেলে না দিয়ে, সেগুলিকে সার হিসাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে এগুলি গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
* গৃহস্থালি কাজেও দরকারি: এই খোসাগুলি প্রাকৃতিক এয়ার ফ্রেশনার হিসেবে কিংবা হালকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে৷ এর ফলে রাসায়নিক-ভিত্তিক পণ্যের ব্যবহার কমিয়েও ঘরকে সতেজ ও সুগন্ধযুক্ত রাখা সম্ভব হয়।
গরমে সুস্থ থাকতে এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে এই ছোট পরিবর্তনই আনতে পারে বড় উপকার।
