
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তুরে হাওয়ার কনকনে শিরশিরানি, সকালবেলা লেপ-কম্বলের মায়া আর সন্ধে নামলেই উনুনের পাশে আড্ডা—শীতকাল মানেই বাঙালির জীবনে খানিকটা আলসেমি আর ভরপেট খাওয়াদাওয়া। তবে এই মরশুমে শুধু স্বাদের দিকে নজর দিলেই চলবে না, শরীরকে ভিতর থেকে চাঙ্গা রাখাও সমান জরুরি।
শীতকালে শরীরের বিপাকক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়। তাই প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর খাবার এই সময় বেশি প্রয়োজন। আর সেই চাহিদা পূরণে আমিষ পদের জুড়ি মেলা ভার। দেশের নানা প্রান্তে শীত এলেই যেসব বিশেষ আমিষ পদ রসনাকে তৃপ্ত করার পাশাপাশি শরীরকে উষ্ণ রাখে, সেগুলিরই খোঁজ রইল এই প্রতিবেদনে।
১। হায়দরাবাদি হালিম- শীতের সন্ধ্যায় এক বাটি গরম হালিমের তুলনা নেই। মাংস, ডাল, গম আর সুগন্ধি মশলার মিশেলে তৈরি এই স্টু শরীরকে দীর্ঘক্ষণ গরম রাখে। প্রচুর পরিমাণে ঘি এবং আদা-রসুনের ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একদম পারফেক্ট।
২। মুম্বইয়ের ভেজা মাসালা- ভোজনরসিকদের কাছে এটি ‘ভেজা ফ্রাই’ নামেই পরিচিত। খাসির মগজকে পেঁয়াজ, টমেটো আর বিশেষ মশলায় কষিয়ে হালকা আঁচে ভাজা হয়। মুম্বইয়ের রাস্তায় এই পদের কদরই আলাদা। আপনিও ট্রাই করে দেখতে পারেন। একবার খেলে ভুলতে পারবেন না।
৩। কাশ্মীরের রোগান জোশ- তীব্র ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে কাশ্মীরি রোগান জোশের জুড়ি মেলা ভার। মোগলাই ঘরানার এই খাসির মাংসের পদটি মূলত পারস্যের আদব কায়দা মেনে রান্না করা হয়। লাভাস বা খামিরি রুটির সঙ্গে এর কম্বিনেশন অনবদ্য।
৪। পাঞ্জাবের চিকেন টিক্কা- ধোঁয়া ওঠা স্মোকি ফ্লেভারের এই পদ শীতের রাতের আদর্শ স্টার্টার। দই আর মশলার ম্যারিনেশনে তৈরি এই বোনলেস চিকেন সরাসরি আগুনে পুড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে পুদিনার চাটনি আর পেঁয়াজের রিং থাকলে আড্ডা জমে ক্ষীর।
৫। গোয়ার ফিশ ফ্রাই- তটরেখায় বসে গরম মাছ ভাজার স্বাদই আলাদা। কিং ফিশের ফিলেতে সুজি ও চালের গুঁড়োর আস্তরণ দিয়ে মুচমুচে করে ভাজা হয় এই পদ। লেবুর রস আর মশলার মেলবন্ধনে এটি স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়।
৬। কলকাতার মুর্গ মুসল্লম- কলকাতার হেঁশেলে আওয়াধি মেজাজ আনতে মুর্গ মুসল্লমের বিকল্প নেই। মৃদু আঁচে অনেকটা সময় নিয়ে রান্না করা হয় গোটা মুরগি। প্রচুর মশলার ব্যবহারে তৈরি এই পদের গন্ধে খিদে বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
৭। তামিলনাড়ুর চিকেন চেটিনাদ- দক্ষিণ ভারতের এই ঝাল ঝাল চিকেন শীতের কামড় থেকে বাঁচতে দারুণ কার্যকর। নারকেল, পোস্ত আর কারিপাতার বিশেষ পেস্ট ব্যবহার করা হয় এই রান্নায়। পরোটার সঙ্গে এই পদটি একবার খেলে ভুলতে পারবেন না।
পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালে পরিমিত আমিষ খেলে শরীর উষ্ণ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। তবে অতিরিক্ত তেল-মশলা এড়িয়ে ভারসাম্য বজায় রাখাই শ্রেয়। তাই এই শীতে লেপের ওমে আর আলসেমিতে ডুবে না থেকে, দেশের নানা প্রান্তের আমিষের স্বাদে শরীর আর মন—দুটোকেই চাঙ্গা রাখুন।
