
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উৎসবের আবহে ইদের চাঁদ দেখা মানেই আনন্দের ঢেউ। নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি চাঁদরাতের অন্যতম আকর্ষণ হাতভর্তি মেহেন্দির নকশা। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে বিপজ্জনক ফাঁদ। দ্রুত রং ধরার লোভে অনেকেই এখন ভরসা করছেন ‘ইনস্ট্যান্ট’ মেহেন্দির উপর, আর সেখানেই বাড়ছে বিপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল ভেষজ মেহেন্দির রং গাঢ় হতে সময় লাগে অন্তত কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু বাজারে সহজলভ্য কিছু মেহেন্দি কয়েক মিনিটেই গাঢ় রং দেওয়ার দাবি করে। এই ধরনের পণ্যে সাধারণত মেশানো থাকে ‘পিপিডি’ (প্যারা-ফেনাইলেনেডিয়ামিন) নামের একটি শক্তিশালী রাসায়নিক, যা মূলত চুলের রং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই উপাদান সরাসরি ত্বকে লাগলে তা মারাত্মক অ্যালার্জি বা চর্মরোগের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এই রাসায়নিকের প্রভাবে ত্বকে তীব্র চুলকানি, লাল দাগ, ফুসকুড়ি এমনকি ফোস্কা পর্যন্ত পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ‘কেমিক্যাল বার্ন’-এর মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত রেখে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। তাই মেহেন্দি ব্যবহারের আগে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেহেন্দির গন্ধে যদি ভেষজের বদলে তীব্র রাসায়নিকের আভাস পাওয়া যায়, তবে তা ব্যবহার না করাই ভাল। ব্যবহার করার আগে ‘প্যাচ টেস্ট’ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— কানের পেছনে বা কনুইয়ে সামান্য লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে মেহেন্দির রং গাঢ় করার কিছু সহজ কৌশলও রয়েছে। লেবু-চিনির মিশ্রণ বা লবঙ্গের ধোঁয়া ব্যবহার করলে রং দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ত্বকের ক্ষতিও হয় না মেহেন্দি লাগানোর পর যদি কোনও অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা চুলকানি শুরু হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে তা ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, সাময়িক সৌন্দর্যের চেয়ে সুস্থতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ— এমনই বার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
