
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় পরম্পরায় দিন এবং রাতের প্রতিটি প্রহরকে নির্দিষ্ট শক্তির আধার হিসেবে গণ্য করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রজনী হলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়, যখন প্রকৃতির স্থবিরতার মাঝেও ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তির খেলা চলে। লোকবিশ্বাস ও শাস্ত্র মতে, এই সময়টি আমাদের চারপাশের সূক্ষ্ম শক্তির ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ঠিক এই কারণেই প্রাচীন কাল থেকে রাতে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, বিশেষ করে ঘরের লক্ষ্মী বা মহিলাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো পালনের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়—যাতে সংসারের সুখ ও সমৃদ্ধি অটুট থাকে।
শাস্ত্র মতে, মহিলাদের শক্তিকে গৃহের লক্ষ্মীর শক্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাসের প্রভাব সরাসরি ঘরের পরিবেশ, মানসিক শান্তি ও আর্থিক স্থিতির ওপর পড়ে বলে মনে করা হয়। রাতে ঘুমানোর আগে কিছু ভুল অভ্যাস অজান্তেই নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা, অকারণ ক্লান্তি কিংবা সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাতে খোলা চুলে ঘুমানো একটি অশুভ অভ্যাস। বলা হয়, খোলা চুল ব্যক্তির শক্তিকে ছড়িয়ে দেয় এবং তা নেতিবাচক শক্তির আকর্ষণের ক্ষেত্র তৈরি করে। বিশেষ করে একা ঘুমোনোর সময় চুল বেঁধে ঘুমানোকে সুরক্ষিত বলে মনে করা হয়। এটি শুধু আধ্যাত্মিক নয়, মানসিক স্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়।
রাতে সুগন্ধি ব্যবহার নিয়েও শাস্ত্রে সতর্কবার্তা রয়েছে। দিনের বেলায় সুগন্ধি ব্যবহার স্বাভাবিক হলেও, ঘুমাতে যাওয়ার আগে তীব্র সুগন্ধ নাকি পরিবেশের শক্তিকে উত্তেজিত করে তোলে। বিশ্বাস করা হয়, এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং নেতিবাচক শক্তির প্রবেশ সহজ হয়। তাই রাতে হালকা বা কোনও সুগন্ধি ব্যবহার না করাই উত্তম।
সূর্যাস্তের পরে চুল আঁচড়ানো নিয়েও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শাস্ত্র মতে, সূর্যাস্তের পর শরীরের শক্তি ধীরে বিশ্রামের দিকে যায়। এই সময় চুল আঁচড়ালে নাকি শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই দিনের আলো থাকতেই চুল আঁচড়িয়ে বেঁধে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাতের ঝগড়াকে সবচেয়ে অশুভ অভ্যাসগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। রাতের সময় মানসিক চাপ ও উত্তেজনা বেশি প্রভাব ফেলে। শাস্ত্র অনুযায়ী, রাতে ঝগড়া করলে সেই নেতিবাচক শক্তি ঘরের মধ্যে দীর্ঘ সময় থেকে যায়, যার প্রভাব পরের দিন পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে। বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকেও রাতের ঝগড়া ঘুমের ক্ষতি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে।
রাতে ঘর পরিষ্কার
রাতে ঘর পরিষ্কার বা ভারী কাজ করাকেও নিরুৎসাহিত করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, রাত বিশ্রামের সময়, কর্মের নয়। এই সময় ঝাড়ু দেওয়া বা ভারী কাজ করলে দেবী লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়। যার ফলে আর্থিক টানাপোড়েন ও মানসিক অশান্তি দেখা দিতে পারে। এই বিশ্বাসগুলো আধুনিক জীবনে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক না হলেও, এর অনেকটাই স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত। রাতে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা, হালকা মন নিয়ে ঘুমানো এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়িয়ে চলাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।
