
দুর্গাপুর, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ করোনা মহামারি গোটা বিশ্বে প্রভাব ফেলেছে। আতঙ্কের ছাপ এখনও মানুষের চোখেমুখে। করোনা আবহে জনসমাগম ঠেকাতে বন্ধ হয়েছিল ছাগ বলি। তার জেরে মা দুর্গাকে সন্তুষ্ট করতে এবছর শান্তি যজ্ঞের আয়োজন করল কাঁকসার গোপালপুরে লায়েকবাড়ি। আগামী মঙ্গলবার গোপালপুর পুর্ব পাড়ার লায়েকবাড়ির মন্দির পন্ডিতমহলের পরামর্শ মেনে শুরু হবে যজ্ঞানুষ্ঠান। এমনটাই জানিয়েছে লায়েক পরিবার।কাঁকসা থানা এলাকার বহু প্রাচীন গ্রাম গোপালপুর। গ্রামের লায়েকবাড়ির দূর্গাপুজো এবছর ৫২২ বছরে পড়ল। তৎকালীন পুর্ব পুরুষরা নিজেদের বৈভব প্রতিষ্ঠার জন্য মা দূর্গা পুজো শুরু করেন। মা এখানে ব্যঘ্রবাহিনী রনংদেহি মূর্তিতে পুজিতা হন।
এবছর পন্ডিতমহলের পরামর্শ অনুযায়ী সব আচার মেনে শুরু হবে শান্তিযজ্ঞ। লায়েক পরিবার সুত্রে জানা গেছে, মোঘল সম্রাট সেলিম জাহাঙ্গীর সিলামপুর পরগণার রাজ দরবার থেকে প্রতি বছর পুজোর সময় ভেট পাঠাতেন। মন্দিরে প্রাচীনত্ব বোঝা যায়, সেখানের কাঠের খিলান, ইটের নিদর্শনে। ভগ্নপ্রায় মন্দির সামনের অংশ সংসার করা হলেও,প্রাচীন নিদর্শন কিছু রাখা হয়েছে। এখানে মা দূর্গার দুই হাতের তুলনায় বাকি আট হাত ছোট। মহিষাসুরকে বিনাশ করতে অন্যান্য দেবতার যে হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন, মুলত সেইসব হাত দুটি হাতের তুলনায় ছোটো। ব্যাঘ্র বাহিনী রণংদেহী মূর্তিতে পুজিতা হন। এছাড়াও মায়ের কোন ডাকের সাজসজ্জা নেই। সব মাটির তৈরী সাজ। মায়ের পরনে থাকে ঘাঘরা। মাথায় স্বর্ন মুকুট পরিহিতা।
সপ্তমীর দিন মা'য়ের নিজস্ব পুকুরে নবপত্রিকা আানা হয়। প্রাচীন রিতি অনুযায়ী মহাষ্টমীতে শ্বেত ছাগ বলি হযত। নবমীর দিন সাধারন ছাগ বলি হত। প্রচুর জনসমাগম হত। তবে গত দুই বছর করোনা আবহে সামাজিক দুরত্ব বিধি বজায় রাখতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ছাগ বলি।
তার পরিবর্তে অষ্টমীর দিন একটি ও নবমীর দুটি চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। শাস্ত্র মতে একাসনে বসে মায়ের পুজো হয়। একবার পুরোহিত পুজোর আসনে বসলে, পুজো শেষ না হওয়া অবধি উঠতে পারবেন না। পুজোর চারদিন মায়ের অন্ন ভোগ হয়না। লুচি, চিঁড়ে, দুধ, কলা দিয়ে ভোগ হয়। মা'য়ের প্রতিমা বিসর্জনে প্রতিমা গ্রামের আর্ধেক অংশ প্রদিক্ষণ করে। তারও ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। অতীতে বিসর্জনের দিন গ্রামে আগুন লেগেছিল। তাই পোড়া গ্রাম বলা হত। সেই থেকে লায়েক পরিবারের দূর্গা প্রতিমা গ্রামের আর্ধেক ঘোরানো হয়। তবে গত দুবছর ছাগ বলি বন্ধ হওয়ার দরুন, মা'কে সন্তুষ্ট করতে শান্তি যজ্ঞের আয়োজন করেছেন লায়েক পরিবার। মঙ্গলবার হবে সেই শান্তি যজ্ঞ। লায়েক পরিবারের সদস্য কাঞ্চন লায়েক বলেন, " জেলার অন্যতম প্রাচীন এই দুর্গা পুজো দেখতে বহু মানুষের সমাগম হয় লায়েক বাড়িতে। আমাদের সন্ধি পুজো দেখতে আশেপাশের বহু গ্রামের মানুষও আসেন। এবছর মা'কে সন্তুষ্ট করতে পন্ডিতদের পরামর্শ মত মঙ্গলবার শান্তি যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।"
