
কলকাতা, ২১ মার্চ : রাতভর বৃষ্টিতে ভিজল মহানগরী কলকাতা। বৃষ্টি থামেনি শনিবার সকালেও, আকাশেরও মুখ ভার। উল্টে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়ে চলেছে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রও আপাতত দু’দিন উত্তাল থাকবে।
শুক্রবারই কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত শহর ও শহরতলিতে তেমন বৃষ্টি না হলেও ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। আকাশে মেঘ ছিল, রাত বাড়তেই বৃষ্টি শুরু হয়। কলকাতার বেশ কিছু অংশে মধ্যরাতের পর মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে ছিল বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া।
ঝড়বৃষ্টির কারণে এক ধাক্কায় কলকাতার পারদ নেমে গিয়েছে ৬ ডিগ্রি। শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে তা হয়েছে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়েও যা ৪.৪ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দু’দিন পারদ নামার পর ফের তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি বাড়বে তাপমাত্রা।
দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে রবিবার পর্যন্ত খারাপ থাকবে আবহাওয়া, এমনটাই পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দফতরের। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একাধিক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। তবে সোমবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
