
কলকাতা, ৮ অক্টোবর : প্রশাসনিক প্রধান ছাড়াও রাজ্যবাসীর সর্বময় অভিভাবক তিনি। কাছের মানুষও। শনিবার রেড রোডের কার্নিভ্যালেও মূল আকর্ষণ ছিলেন তিনি। পরিবেশন করলেন সাঁওতালি নৃত্য।তিনি মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাবরই আমজনতার সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ। এমনকী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দূরে সরে যাননি। 'জননেত্রী' ইমেজে এতটুকুও টাল খায়নি। আর উৎসবে তো তিনি আরও 'রঙিন', আরও বৈচিত্রময়ী! যে রূপ শনিবার দেখা গেল রেড রোডে পুজো কার্নিভালে। অনেকক্ষণ ধরে মঞ্চে বসে অনুষ্ঠান দেখছিলেন।সন্ধের পর আর বসে থাকতে পারলেন না। ফের ঢাক কাঁধে তুলে নিয়ে বাজালেন। পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিলেন ফিরহাদ হাকিম। আবার রামমোহন সম্মিলনীর পুজোয় জঙ্গলকন্যা থিমে সাঁওতাল রমণীদের সঙ্গে পা মিলিয়ে নাচলেনও। কার্নিভালে তাঁকে এভাবে সক্রিয় ভূমিকায় অংশ নিতে এর আগে কখনওই দেখা যায়নি।কয়েক বছর ধরেই রেড রোডে দুর্গাপুজো কার্নিভালের মধ্যে দিয়ে বাঙালির সেরা উৎসবের সমাপ্তি হচ্ছে। এবছর সেই কার্নিভাল আরও আকর্ষণীয় ও জমকালো। কারণ, ইউনেস্কোর তরফে এবার হেরিটেজ তকমা পেয়েছে দুর্গাপুজো। তাই তার উদযাপনে বাড়তি জৌলুস তো থাকবেই।শনিবার রেড রোডের কার্নিভালে অংশ নিয়েছে ১০০ টি পুজো কমিটি। প্রত্যেকের প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ ছিল তিন মিনিট করে। সুকিয়া স্ট্রিটের রামমোহন সম্মিলনীর পুজোয় এবারের থিম ছিল ‘জঙ্গলকন্যা’। জঙ্গলমহলের অন্যতম রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা নিজে এই পুজোর সঙ্গে জড়িত। এই পুজোর ট্যাবলো প্রদর্শনীর সময় মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চের সামনে সাঁওতালি নৃত্য পরিবেশন করেন সেখানকার মেয়েরা। তা দেখে মুখ্যমন্ত্রীও নেমে আসেন মঞ্চ থেকে।এবছর ইউনেস্কোর তরফে ইনট্যানজিবেল হেরিটেজের তকমা পেয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। সেই উপলক্ষে আনন্দ-আয়োজন একটু বেশিই। রেড রোডে কার্নিভালের মধ্যে দিয়ে কলকাতায় পুজোর সমাপ্তি ঘটানোর চল বেশ কয়েক বছর ধরেই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই কার্নিভাল। এবছরও ৮ অক্টোবর, রেড রোডে শতাধিক পুজো কমিটির অংশগ্রহণে কার্নিভালের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো আয়োজনও হয়।বিভিন্ন মহলের মানুষ ও বিশিষ্টদের কোনও প্রশ্ন, কোনও অনুরোধই যে কার্নিভালের পরিকল্পনায় কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, তা বোঝাই গেল। বিষয়টি অবশ্য অনেকে ভালভাবে নিতে পারেননি।
