
কাঠমান্ডু, ২৬ সেপ্টেম্বর : বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প ও সংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য এলাকায় প্রবল তুষারপাতের কারণে পর্বতোরোহীদের ট্র্যাকিং ও চড়াই অভিযানের ওপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নেপাল প্রশাসন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তুষারপাতে আটকে পড়া সাতজন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
নেপালের সোলুখুম্বু জেলার খুম্বু অঞ্চলে বিগত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির পর পাহাড়ি উচ্চ অঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাত শুরু হয়। বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় আধ মিটারেরও বেশি তুষারের আস্তরণ জমে গেছে বলে জানা গেছে, যার ফলে পর্যটক ও পর্বতারোহীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক ও ট্র্যাকারদের ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চ পার্বত্য এলাকার দিকে এগোতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের যৌথ সমন্বয়ে ওপরের দিকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোলুখুম্বুর প্রধান জেলা আধিকারিক কমানসিং থাপা মগর জানান যে, খুম্বুর উপরিভাগে অবিরাম ভারী তুষারপাত চলছে। বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যেই প্রায় আধ মিটারের বেশি বরফ জমে গেছে।
এই চরম তুষারপাতের কারণে সগরমাথা (এভারেস্ট) অঞ্চলের ইমজা ছে বা আইল্যান্ড পিক এলাকায় সাতজন বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পর্যটকদের ইতিমধ্যেই সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি পথের বাধা অতিক্রম করে এই জটিল উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
উল্লেখ্য, ইমজা ছে বা আইল্যান্ড পিক হলো সগরমাথা জাতীয় উদ্যানের খুম্বু অঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্বতারোহণ কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৬,১৬৫ মিটার। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দিংবোচে থেকে ইমজা খোলা হয়ে চুকুমের দিকে যাওয়া ট্র্যাকিং রুটটি সগরমাথা বেস ক্যাম্প অঞ্চলের মূল ট্র্যাকিং পথের সাথেই সংযুক্ত।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন ওপরের দিকে নতুন করে অতিরিক্ত পর্যটক ও ট্র্যাকারদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা ও নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির সাথে পূর্ণ সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে। বর্তমানে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অঞ্চলে ১,২০০ জনেরও বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন।
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই সমস্ত পর্যটকদের ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছে। আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনো অবস্থাতেই যেন পর্যটক বা পর্বতারোহীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যান এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশাবলী কড়াকড়িভাবে মেনে চলেন, সেই মর্মে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে।
