
হাওড়া, ১ অক্টোবর : প্রথা মেনে বেলুড় মঠে শুরু হল দেবীর আরাধনা ৷ শনিবার ভোরে মহাষষ্ঠীর পুণ্য লগ্নে দুর্গামণ্ডপেই নারায়ণপুজো হয় ৷ আজ মহাষষ্ঠীর পূণ্য লগ্নে ভোরবেলায় দেবীর ঘট গঙ্গার জলে স্নান করিয়ে স্থাপন এবং ষষ্ঠীর কল্পারম্ভ। চলছে দেবীর বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠান। সকাল সাতটা থেকে দশটা এবং সন্ধ্যায় ৬: ২০ মিনিটে হবে স্বস্তির পূজা। দূরদুরান্ত থেকে অগণিত ভক্তের ভিড় বেলুড় মঠে।রাজ্যে তিন দফার করোনার কম ঝড় যায়নি বাংলার এই পবিত্রভূমিতেও। করোনা বিধি মেনে চললেও শেষ অবধি, এখানের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হন। করোনা বিধি মেনে এখানে দর্শক প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে প্রবেশ অবাধ করলেও, করোনা বিধি বাধ্যতামূলক করা হয়। তার উপর এখন দোসর ডেঙ্গি। তবে জমা জল নিয়ে সতর্ক বেলুড় প্রশাসন। তার উপর এখন, দুর্গা পুজো বলে কথা। এসময় গঙ্গার পাড়ে প্রকৃতি অন্য কথাই বলে। ভোর থেকেই মনোরম পরিবেশ এখন বেলুড়ে। ফুলে ফুলে শোভিত চারিপাশ। কুমারির পুজোর অপেক্ষায় বেলুড়।প্রতিবছরের মতো নিয়ম মেনে বেলুড় মঠে জন্মাষ্টমী তিথিতে, প্রথা মেনে আগস্টেই দুর্গা প্রতিমার কাঠামো পুজো হয়। মূলত, ভাদ্রমাসের কৃষ্ণা অষ্টমীতে মথুরার কারাগারে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ ৷ সেই পূণ্য তিথির স্মরণে এই দেশে মহাআড়ম্বরে পালিত হয় জন্মাষ্টমী ৷ আর সেই তিথিতেই অফিসিয়ালি দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে যায়। প্রতি বছর দুর্গা প্রতিমার বিসর্জনের পর কাঠামো তুলে এনে রাখা হয়। তারপর জন্মাষ্টমীর দিনই পুজো করা হয় সেই কাঠামো। সেইমত মন্দিরে মঙ্গলারতির পর কাঠামো পুজো করা হয়। সেইসঙ্গে শুরু হয় মণ্ডপ তৈরির কাজ। ফলে বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছিল গত মাসেই। আজ চলেছে দেবীর বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠান। করোনা পর্বের পর এবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বেলুড় মঠ। তাই দূরদুরান্ত থেকে অগণিত ভক্ত এবং বেলুড় মঠের দেবী দর্শনে দর্শক আসা শুরু করেছে।
