
কলকাতা, ২৬ অক্টোবর : বাঙালির উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে সাতসকালে হাজির হন ইডি কর্তারা। ঘটনাচক্রে, যখন রেশন বণ্টন ‘দুর্নীতি’ মামলায় জ্যোতিপ্রিয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকেরা, তখনই ‘বিজয়া করতে’ মন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছে যান বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুলসী সিংহ রায় এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি রঞ্জন পোদ্দার।
তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় ফটকে প্রহরারত রাইফেলধারী জওয়ানরা। ঢুকতে বাধা পাওয়ার পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছেতুলসীর অভিযোগ, “আমাদের ঐতিহ্য মেনেই গুরুজনের সঙ্গে বিজয়া করতে এসেছিলাম। কিন্তু এরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে আঘাত হানছে।”
বৃহস্পতিবার হঠাৎই জ্যোতিপ্রিয়ের সল্টলেকের বাড়ির সামনে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রথমে হাতে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে জ্যোতিপ্রিয়ের বাড়ির সামনে হাজির হন সব্যসাচীবাবু। তার পরেই সেখানে চলে আসেন তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর। সঙ্গে অন্তত জনা দশ দলীয় সমর্থক। তাঁদের বাড়ির ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।
সব্যসাচীদের বক্তব্য, “আমি বুধবার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করে বিজয়া দশমী সেরে এসেছি। বৃহস্পতিবার সকালে গিয়েছিলাম বালুদার বাড়িতে। সেখানে পৌঁছে তো আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়!” প্রসঙ্গত, জ্যোতিপ্রিয় তৃণমূলের অন্দরে ‘বালুদা’ হিসাবেও পরিচিত। তিন কাউন্সিলরকে ভিতরে খালি হাতে জওয়ানরা যাওয়ার অনুমতি দেয়। সঙ্গীরা বাইরে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই বিরক্ত হয় বলতে থাকেন, “বাংলার সংস্কৃতি এঁরা বোঝেন না। প্রতি বছর সকালে এই দিনটায় আমরা আসি সৌজন্যসাক্ষাতে। আজ সেটা হল না।“
