Country

1 hour ago

West Bengal Assembly Election Result 2026 : দিল্লিতে বাংলার ছোঁয়া, ময়ূরপুচ্ছ ধুতিতে মোদি—বিজেপি অফিসে বাজল বাংলা গান

Narendra Modi
Narendra Modi

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্যের ইঙ্গিত মিলতেই দিল্লিতে উদযাপনের ছবি ধরা পড়ল।  মোদি-কে দেখা গেল একেবারে বাঙালি সাজে—ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে তিনি পৌঁছলেন Bharatiya Janata Party-এর সদর দপ্তরে |

বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতন ঘটেছে। বঙ্গে গেরুয়া সুনামি। নির্বাচন কমিশনের সাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯০টি আসন জিতে গিয়েছে বিজেপি। ১১৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে পদ্ম শিবির। ‘ক্ষমতা’ নিশ্চিত হতেই বাঙালিবাবু সেজে দিল্লির সদর দপ্তরে পৌঁছে যান মোদি। তিনি ময়ূরপুচ্ছ ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে সদর দপ্তরে যান। সেখানে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজকের দিন ঐতিহাসিক। আজকে ভরসার দিন। এক ভারত ও শ্রেষ্ট ভারত তৈরির দিন। বাংলা, অসম, পদুচেরি, তামিলনাড়ুর জনতাকে  প্রণাম জানাই। আমাদের দলের প্রত্যেককর্মীর হাসিতে আমি খুশি।” পাশাপাশি বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের প্রশংসা করেছেন মোদি। 

উল্লেখ্য, সদর দপ্তরে যাওয়ার আগেই বাংলায় জয় নিয়ে পোস্ট করেন মোদি। পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই। আমি তাঁদের আশ্বাস দিচ্ছি, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব যা সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।”“বাংলার এই জয় ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে উৎসর্গ করলাম।” বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের পর এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। “এই জয় ঐতিহাসিক। বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হল। বেশ কয়েক বছরের তপস্যার ফল মিলেছে। অঙ্গ-কলিঙ্গের পরে বিজেপির বঙ্গ জয়।” এই বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, বাংলায় ‘হিংসার সংস্কৃতি ছাড়ুন’ এই আর্জিও করেছেন তিনি।বিহারে ভোটের ফলাফলের দিনই নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়। এদিন তিনি বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে।” বিজেপির কোটি কোটি কর্মীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এবারে বাংলায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেই ঘটনা ঐতিহাসিক বলে এদিন দাবির পাশাপাশি তিনি বলেন, “বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হল।”


বাংলায় ভোটের রাজনীতিতে রক্তপাত, হিংসা, প্রাণহাণির ঘটনা দেখা গিয়েছে অতীতে। এবার নির্বাচন কমিশন কড়া হাতে বাংলায় নির্বাচন পরিচালনা করেছে। খুন, রক্তপাতের চিত্র ভোটের সময় দেখা যায়নি। এদিন বাংলায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতি বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হিংসার সংস্কৃতি ছেড়ে আসার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বার ভয় নয়, লোকতন্ত্র জিতল। বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে। এবার বদলা নয়, বদল।” অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে ভোটে লাগাতার প্রচার করেছিল বিজেপি। এদিন অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী।বিভাজনের রাজনীতির কারণে বাংলায় ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল সরকারের, দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে বিজয়বার্তা দেওয়ার সময় একথাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু বাংলা নয়, তামিলনাড়ু এবং কেরলেও সরকারের পতনের কারণ হিসেবে বিভাজনের রাজনীতিকেই দায়ী করেছেন তিনি। মোদি জানান, তৃণমূল ভাঙার রাজনীতি করছে। কখনও ভাষা নিয়ে বিবাদ, কখনও আবার খাদ্যাভাস নিয়ে সমাজকে বিভাজনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কখনও নিজের দেশের মানুষকেই ‘বহিরাগত’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিভাজনের জন্যই বাংলা, কেরল ও তামিলনাড়ুতে সরকারের পতন হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদির কথায়, “এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সাফ জবাব দিয়েছে জনতা। মানুষ জানিয়ে দিয়েছে, বিবাদ নয় বিকাশ চাই। বিভাজন নয়, বিশ্বাস চাই।” বিজয়বার্তায় মোদি আরও বলেন, আজকের ভারত প্রগতি চায়, স্থিরতা চায়। ভারত চায় এমন রাজনীতি যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।


ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাঙালি অস্মিতা, বহিরাগত ও খাদ্যাভাস নিয়ে বিজেপিকে কোণঠাসা করেছিল তৃণমূল। বিজেপি শাসিত রাজ্যে একাধিক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্তার ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছিল তারা। প্রথম থেকেই বিজেপি নেতাদের ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি বিজেপিকে আমিষ-বিরোধী বলেও প্রচারে নেমেছিল তারা। এই তিন ইস্যুতেই বিজয়বার্তায় জবাব দিলেন মোদি। এই বিভাজনের রাজনীতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ুতে সরকারের ভরাডুবি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।  

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ করিয়ে দেবে বলে প্রচারে সরব হয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই দাবি কার্যত অস্বীকার করে প্রচারে একের পর এক বিজেপি প্রার্থীদের মাছ নিয়ে প্রচার করতে দেখা যায়। এমনকী আমিষ-বিরোধী তকমা ঘোচাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও বাংলায় এসে মাছ খেতে দেখা যায়। প্রচারের শেষ পর্বে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোটের আগে এই প্রচার খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

You might also like!