
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১৮ সালে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। দেশের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে চিকিৎসা খরচের চাপ থেকে মুক্তি দেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। তবে সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরোধিতার কারণে এই প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি। রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে চালু করা হয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলে রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এবার পশ্চিমবঙ্গেও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হতে পারে। ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার নতুন সুযোগ পেতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ঠিক কীভাবে যুক্ত হওয়া যাবে, কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং কোন কোন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে।
∆ আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের জন্য আবেদনের পদ্ধতি:
১. প্রথমেই চলে যান PMJAY পোর্টালে। অথবা ডাউনলোড করে নিন Ayushman App। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন করুন। এরপর আধার অথবা রেশন কার্ডের নম্বর দিয়ে দেখতে হবে আপনি আদৌ যোগ্য কি না।
২. যোগ্য হলে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করুন। ওটিপি সাবমিট করুন।
৩. ডাউনলোড করে নিন নিজের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড।
∆ কারা আবেদনের যোগ্য:
১. ভূমিহীন এবং দিনমজুর পরিবার
২. তফশিলি জাতি ও উপজাতি পরিবার
৩. কাঁচা ও এক কামরার বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার
৪. পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই এমন
৫. ৭০ উর্ধ্ব সকলে আয় নির্বিশেষে
∆ কোন কোন পরিষেবা মিলবে:
১. যোগ্য পরিবারকে প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা
২. কার্ডের তালিকাভু্ক্ত হাসপাতালে ভর্তির জন্য নগদের প্রয়োজন নেই, অর্থাৎ ক্যাশলেস চিকিৎসা
৩. চিকিৎসা, পরীক্ষা, অপারেশন ও ওষুধের খরচ
৪. ভর্তি হওয়ার আগের ৩ দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ
