
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রথা মত রাজ্য আইনসভায় বাজেট অধিবেশনের আগে রাজ্যপাল ভাষন দেন ,সাধারনত রাজ্যপাল যে বক্তব্য পাঠ করেন, তা সরকারের তরফেই লিখে দেওয়া হয়। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করে থাকে যে, এই লিখিত বক্তব্যে শুধু সংশ্লিষ্ট সরকারের ভাল দিক গুলিই তুলে ধরা হয়। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে রাজ্যপালরা সরকারের লিখে দেওয়া বক্তব্য পাঠ না করে স্বতন্ত্র বক্তব্য রাখতে চাইলেও, তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। যেমনটা হয়েছিল তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল কিংবা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের ক্ষেত্রে।
বুধবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন সূচনায় বাংলার রাজ্যপালের ভাষণকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভারপরিবেশ। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বক্তব্যে দুর্নীতিকে আড়াল করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অধিবেশন কক্ষেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। পরে ‘চোর ধরো, জেল ভরো’ স্লোগান তুলে বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করেন তাঁরা।
যদিও এই বিক্ষোভের মধ্যেও রাজ্যপাল অবশ্য তাঁর পুরো বক্তব্যই পেশ করেন।প্রসঙ্গত, বুধবার শোকপ্রস্তাব পাঠ শেষ হতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে জেলবন্দি করে রাখা হয়েছে কেন, সরকারপক্ষের কাছে সেই কৈফিয়ত চেয়ে স্লোগান তোলেন পদ্মশিবিরের বিধায়করা। রাজ্যপাল বক্তব্য পেশ করা শুরু করলে তাঁরা স্লোগান তোলেন, “চাকরি চোর সরকার, আর নেই দরকার।”
বিরোধীরা অভিযোগ করেন যে, রাজ্যপাল রাজ্যের ‘পর্বতসমান দুর্নীতি’কে আড়াল করে সরকারের গুণগান গাইছেন। ‘রাজ্যপালের মিথ্যা ভাষণ মানছি না, মানব না’ স্লোগান তুলে তাঁরা বিধানসভার কক্ষত্যাগ করেন। রাজ্যপালের লিখিত বক্তব্যের প্রতিলিপিও ছিঁড়ে ফেলে দেন তাঁরা।
ভাষন শেষে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিরোধী বিধায়কদের উদ্দেশে হাতজোড় করে প্রণাম করেন বাংলার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস,তখনও রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়কদের।
