
কলকাতা, ৭ ফেব্রুয়ারি : ‘‘বলা হচ্ছে লন্ডনেও নাকি একটা বাড়ি আছে আমার। আমি বলছি, সত্যিই যদি লন্ডনে বা অন্য জায়গায় আমার বাড়ি থাকে, তবে আমাকে ঝুলিয়ে দিক।’’ আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই ফাঁসি চাইলেন রাজ্যের তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য।
মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে শুনানি ছিল তাঁর। বিচারকের এজলাস থেকে বেরিয়েই ক্ষোভে তিনি ফেটে পড়েন। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা আইনজীবীদের উদ্দেশেই বলতে শুরু করেন, ‘‘আমার অন্য জায়গায় বাড়ি থাকলে আমায় ঝুলিয়ে দিক। নদিয়াটা কি লন্ডন অধিগ্রহণ করেছে!’’
কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি মানিকবাবু প্রসঙ্গে সিবিআইকে বলেছিলেন, মানিক সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য তো তিনিই জানেন। সে সব সিবিআই তদন্তে উঠে আসছে না কেন? কী তথ্য তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করেই বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘কত বার লন্ডনে গিয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য? তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানেন? আমি বলতে পারি। শুনবেন? লন্ডনে তাঁর বাড়ির পাশে কার বাড়ি জানেন? আমি জানি।’’
হাই কোর্টের বিচারপতির সেই মন্তব্যের পর মঙ্গলবার আদালতে এসেছিলেন মানিকবাবু। সেখানেই তিনি লন্ডনের বাড়ি প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘‘১৯৮৯ সালে যাদবপুরে একটা ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। পরিবার বড় হওয়ার পর বড় ফ্ল্যাট নেওয়া হয়। এ ছাড়া নদিয়াতে বাড়ি আছে। আমি সিবিআইকে তো সবই জানিয়েছি।’’
বাড়ি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশপাশিই মানিকবাবুর দু’টি বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে সিবিআইয়ের মন্তব্যেরও এদিন জবাব দিয়েছেন তিনি। সিবিআই বলেছিল, মানিকবাবুর দু’টি বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মঙ্গলবার বলেন, আমি কি পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে ঠকিয়েছি? একটা পাসপোর্টের উপর আরেকটা পাসপোর্ট আছে? দু’টো পাসপোর্ট থাকলে সরকার দেখেনি? বাড়িতে থাকলে এর প্রমাণ দিতাম। কিন্তু আমি তো সেলে।
