
কুলতলি, ৩ জানুয়ারি : সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। আর সেই পঞ্চায়েত ভোটের আগে এলাকায় ঘুরে ঘুরে দলের কর্মীদের মনবল বাড়াতে উদ্যোগ নিল বিজেপি। বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলিপ ঘোষ মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি ব্লকের গোপালগঞ্জ ভৈরবের মোড় এলাকায় একটি কর্মীসম্মেলনে উপস্থিত হয়ে দলের কর্মীদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেন পঞ্চায়েত ভোটের জন্য। এদিন দিলিপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জয়নগর সাংগঠনিক জেলার অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।
মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন একের পর এক আক্রমণ শানান তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি আগামীদিনে বিজেপির পঞ্চায়েত হলে এলাকার মানুষ সমস্ত ধরনের সরকারি পরিষেবা ঠিক মতো পাবেন বলেও জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি এদিন বলেন, “মোদীজির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে পঞ্চায়েত লড়তে যাচ্ছি, যাতে এলাকার মানুষকে সুশাসন উপহার দিতে পারি। কথায় কথায় কেউ চমকাবে না। আমরা চাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা যেন ঠিক লোক ঠিক ভাবে পায়। আমাদের সাথে থেকে টাকা মারতে পারেনি বলে অনেকেই আমাদের দল ছেড়ে অন্য দলে চলে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখন ডাকাতরা রয়েছে, তাই বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে দিচ্ছে না। অনেক ডাকাতকে ঠিক করে দিয়েছি আমরা, যারা এখনও এখানে আছেন তাঁদেরকেও ঠিক করে দেওয়া হবে। মানুষের অধিকারকে কেঁড়ে, লুট করে নিয়ে কেউ রাজনীতিতে থাকতে পারে না।” তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গরীব বাড়ির ছেলে, সেই কারণে তিনি গরীবের কষ্ট জানেন। আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্র দিয়েছে, সেই টাকা লুট করে নিয়েছে তৃণমূল। আবাস যোজনার টাকা থেকে শুরু করে আমফানের টাকা যারা দুঃস্থ, ক্ষতিগ্রস্ত তাঁরা সেই ক্ষতিপূরণ পায়নি। যাদের পাকা বাড়ি তাঁরা টাকা পেয়েছে। কেন্দ্রের সমস্ত টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে। পঞ্চায়েতে ডাকাতরা বসে আছে, তাঁরাই নানা ভাবে দুর্নীতি করে টাকা লুট করছে।”
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ আরও বলেন, “ দিদিরি পিছনে যারা ঘুরছে সকলেই এক এক করে জেলে ঢুকে যাচ্ছেন। যে মা মা বলছে সে সে মায়ের ভোগে চলে যাচ্ছে। দিদির দৃষ্টি পড়লে সব যাবে। এখন উনি চেন্নাই গেছেন স্ট্যালিনের সাথে দেখা করতে, বুঝি এবার ওনার কপাল পুড়ল।” পঞ্চায়েত ভোটে আগে এভাবেই দলের মনোবল চাঙ্গা করতে এদিন একের পর এক বক্তব্য রাখেন দিলীপ ঘোষ।
