
কলকাতা, ২২ ডিসেম্বর : পাক গুপ্তচর সন্দেহে এক যুবককে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদপে বিহারের চম্পারণ জেলার বাসিন্দা ওই যুবক।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে টুইটে মমতা প্রশাসনকে এক হাত নিয়েছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি লিখেছেন, “শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আইএসআই এজেন্টকে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই পরগনার পর এখন রাজ্যজুড়ে ডানা মেলেছে সন্ত্রাসীরা। নেপাল-ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শিলিগুড়িকে টার্গেট করেছে তারা। ভারতকে রক্ষা করতে আমাদের চিকেন নেক অঞ্চলকে রক্ষা করা আমাদের প্রয়োজন। মমতা সরকারের অসহযোগিতার কারণে আমাদের দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে যারা এই ধরনের কার্যকলাপে সহায়তা করছে।“
ধৃতের নাম মহম্মদ সাকিল ওরফে গুড্ডু কুমার। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ বুধবার নিউ জলপাইগুড়ি থানার অন্তর্গত ভারত নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। ওই যুবক আইএসআই এজেন্ট হিসাবে কাজ করত বলে অভিযোগ। তবে সে পাকিস্তানে তথ্য পাচার করত কি না, আর কারা তার সঙ্গে যুক্ত, কতদূর জাল বিছিয়েছিল সে তা দেখা হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকেই রাজ্যকে কয়েকদিন আগে জানানো হয়, গুড্ডু কুমার নামে এক ব্যক্তি ভারতীয় সেনার তথ্য পাচার করার কাজ করছেন। তারপরই তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা। শিলিগুড়িতেই একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে থাকতে শুরু করেছিল গুড্ডু কুমার। এলাকায় টোটো চালাত সে।
যে বাড়িতে ভাড়া থাকত, বাড়িমালিকের বাচ্চাদেরও সন্ধ্যায় পড়াত বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এলাকায় শিক্ষিত, ভদ্র ছেলে হিসাবেই বেশ নামডাক করে ফেলেছিল গুড্ডু। শিলিগুড়ির নেতাজিনগর এলাকার গুড্ডু যে ঘরে থাকত, বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়। পাড়ার গলিগুলিতে অত্যুৎসাহী মানুষের জটলা।
প্রসঙ্গত, কিছুকাল আগে কালিম্পং থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে এক যুবককে বেঙ্গল এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। ধৃতের নাম পীর মহম্মদ। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। অভিযুক্ত যুবক পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে অভিযোগ।
