
কলকাতা, ৩ জানুয়ারি : 'ববিতা নন, চাকরির প্রকৃত দাবিদার অনামিকা'। এই দাবি জানিয়ে আদালতে দায়ের হল মামলা । মঙ্গলবারই মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বুধবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা আছে।
মন্ত্রীকন্যার জায়গায় স্কুলশিক্ষিকার চাকরি পাওয়া ববিতা সরকারের বিরুদ্ধে এ বার হাই কোর্টে গেলেন অনামিকা রায়। নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসাবে দাবি করে অনামিকা হাই কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন ববিতার চাকরি বাতিল করে ওই চাকরি তাঁকে দেওয়া হোক। ২৪ ঘণ্টা আগে ববিতা নিজেই নিজের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে জানিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হাই কোর্টের। মঙ্গলবার অনামিকা হাই কোর্টকে জানিয়েছেন, বেশি নম্বর পাওয়ায় তিনিই ওই চাকরির যোগ্য দাবিদার।
আবেদনপত্রে ববিতার ‘ভুল’ তথ্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তালিকায় ববিতার পিছনে থাকা অনামিকা রায় নামে এক চাকরিপ্রার্থী জানান, অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তা হলে ওই চাকরিটি আসলে তাঁর পাওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে অনামিকার আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এবং বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার নম্বর কেউ জানত না। হাই কোর্টের নির্দেশে বিস্তারিত তথ্য-সহ নম্বর প্রকাশ পায়। অতএব, কে কত পেয়েছেন সবাই জানেন। আবার ববিতা মামলা করে অনেক আগে নিজের প্রাপ্ত নম্বর জানতে পেরেছেন। ফলে তিনি জানতেন যে তাঁকে অ্যাকাডেমিক স্কোরে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছে। চাকরি নেওয়ার আগে আদালতে তা জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে চাকরি নিয়েছেন।
নিয়োগ মামলায় দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরিটি পেয়েছিলেন ববিতা। সেই চাকরির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জানা যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর কাছে আবেদন করার সময় ববিতার স্নাতক স্তরের শতকরা নম্বর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। যার ফলে তাঁর ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর’ বেড়ে যায়। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার পরেই ববিতা জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেই বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনবেন। সেই মতো সোমবারই হাই কোর্টে যান ববিতা।
আদালত সূত্রে খবর, তাঁর আবেদন গ্রহণও করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি, ববিতার আবেদনের ভিত্তিতে মামলায় এসএসসি যুক্ত করতেও বলেন বিচারপতি। জানিয়ে দেন, বুধবার ববিতার আবেদনের পরবর্তী শুনানি হবে। ববিতার চাকরি বাতিলের দাবিতে করা অনামিকার আবেদনটিও বুধবারই হাই কোর্টে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চেই শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে খবর। মঙ্গলবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চ অনামিকাকে ওই মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এসএসসি-র চেয়ারম্যান গত বছর ১৭ মে ববিতার নম্বর আদালতে জানান। সেই মোতাবেক বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জুন মাসে অঙ্কিতার চাকরি ববিতাকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
