
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দে মাততে প্রস্তুত ঝাড়খণ্ডের রাঁচি ও জামশেদপুর। বাঙালির ঐতিহ্য মেনে এই দুই শহরের পুজো মণ্ডপে প্রতি বছরই ভিড় জমান হাজার হাজার দর্শনার্থী। স্থানীয় বাঙালিদের পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষজনও শামিল হন উৎসবের আনন্দে। পুজোর দিনগুলিতে এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ঠাকুর দেখার সুযোগ করে দিতে তৎপর প্রশাসন। যানজট এড়ানো ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। ফলে পুজোয় রাঁচি ও জামশেদপুরে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে যান চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশিকা জেনে নেওয়া জরুরি। দুই শহরের ট্রাফিক ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ গাইডলাইন নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
রাঁচি শহরের ট্রাফিক ও যান-নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (১৪ - ২১ অক্টোবর)—
রাঁচি ট্রাফিক পুলিশ শহরের ১8৪টি স্থানে ড্রপ গেট ও ব্যারিকেড তৈরি করেছে এবং ১৭টি পয়েন্টে ভারী যানবাহনের নো-এন্ট্রি কার্যকর করেছে।
• ভারী যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা: সকাল ৮:০০ টা থেকে পরের দিন ভোর ৪:০০ টা পর্যন্ত রাঁচি শহর এলাকায় সমস্ত ধরণের ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
• ছোট ও ব্যক্তিগত গাড়ির রুট পরিবর্তন: প্রতিদিন বিকেল ৩:৩০ টা থেকে পরের দিন ভোর ৩:০০ টা পর্যন্ত রাঁচির মূল সড়ক বা 'মেন রোড'-এ ছোট এবং ব্যক্তিগত গাড়ির প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
• নির্দিষ্ট পার্কিং জোন: যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ ২৩টি নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা চিহ্নিত করেছে:
• সৈনিক মার্কেট এবং জিইএল চার্চ কমপ্লেক্স: ডোরান্ডা ও সুজাতা চকের দিক থেকে আসা ব্যক্তিগত এবং দু-চাকার গাড়ির জন্য।
• জিলা স্কুল এবং বাল কৃষ্ণ স্কুল প্রাঙ্গণ: ফিরায়ালাল চক থেকে বকরি বাজারের দিকে যাওয়া দর্শনার্থীদের জন্য।
• সেন্ট জনস স্কুল (মিশন চক): ডোরান্ডা থেকে সর্জনা চকের দিকে আসা যানবাহনের পার্কিং।
• বিশেষ সুবিধা ও নজরদারি: ১৬ অক্টোবর থেকে রাঁচির পাঁচটি রুটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিটি বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া, ট্রাফিক সিগন্যালের অটোমেটিক ক্যামেরাগুলো ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয় রয়েছে, ফলে নিয়ম ভাঙলে সরাসরি ই-চালান ইস্যু করা হবে।
জামশেদপুর (ইস্পাত নগরী) ট্রাফিক গাইডলাইন (১৫ - ২১ অক্টোবর)—
পূর্ব সিংভূম জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ মণ্ডপমুখী দর্শনার্থীদের যাতায়াত মসৃণ রাখতে ওয়ান-ওয়ে রুট এবং নো-এন্ট্রি জোন তৈরি করেছে।
• ভারী যানবাহনের সময়সূচি: ১৫ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪:৩০ টা থেকে রাত ১:০০ টা পর্যন্ত (বাস ব্যতীত) সমস্ত ভারী যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে সকাল ৫:০০ টা থেকে বেলা ১১:৩০ টা পর্যন্ত পণ্যবাহী ভারী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
• ম্যারিন ড্রাইভ ও মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকা: ম্যারিন ড্রাইভে উৎসবের দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং সেখানে গাড়ি পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রধান পুজো মণ্ডপগুলোর চারপাশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে এবং শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে মণ্ডপে ঢোকার অনুমতি রয়েছে।
• বিসর্জনের দিনের নিয়ম: প্রতিমা বিসর্জনের নির্দিষ্ট রুটে বাস এবং চারচাকার সাধারণ গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা—
দুটি শহরেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে:
• সিসিটিভি ও পুলিশ মোতায়েন: বড় মণ্ডপ ও জনাকীর্ণ মোড়গুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স, সাদা পোশাকের পুলিশ ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
• গুজব প্রতিরোধ ও সচেতনতা: সোশাল মিডিয়ায় কোনো রকমের উস্কানিমূলক বা ভুয়ো তথ্য শেয়ার না করার জন্য প্রশাসনের তরফে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
• পরিচ্ছন্নতা: উৎসবের দিনগুলিতে মণ্ডপ চত্বর পরিষ্কার রাখতে রাঁচি নগর নিগম ১২০০-র বেশি সাফাই কর্মী মোতায়েন করেছে।
পুজো মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে চারচাকার পরিবর্তে দু-চাকার গাড়ি ব্যবহার করার অথবা হেঁটে মণ্ডপে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
