
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর দেশের সংঘাত সিরিয়া ও লিবিয়ার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। লড়াই চলতে থাকলে তা ‘বিশ্বের জন্য দুঃস্বপ্ন’ হবে বলে মন্তব্য তাঁর।
সুদানের সেনাবাহিনী বলছে, তারা ভারী কামান ব্যবহার করে রাজধানী খার্তুমে সব দিক থেকে হামলা করছে।
দেশটিতে প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘসহ সুদানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিবদমান দুই প্রতিপক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৭২ ঘণ্টা বাড়ায়।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আদতে বাড়েনি। খার্তুমের কিছু অংশে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও কামান দিয়ে হামলা অব্যাহত থাকার কথা জানা গেছে।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে এক সম্মেলনে হামদক সুদানের সামরিক বাহিনীর প্রধান ও প্রতিপক্ষ আধা সামরিক বাহিনীর প্রধানকে শান্তি আলোচনায় রাজি করাতে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য আহ্বান জানান।
হামদক বলেন, ‘এটি একটি বিশাল দেশ, খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ...আমি মনে করি, এটি (যুদ্ধ) বিশ্বের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হবে।’
সুদানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সেনাবাহিনী ও ছোট বিদ্রোহীদের মধ্যকার যুদ্ধ নয়। এখানে প্রতিপক্ষ প্রায় সেনাবাহিনীর মতো সুপ্রশিক্ষিত ও ভালো অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত।
হামদক ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দুবার সুদানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, সুদানের নিরাপত্তাহীনতা সিরিয়া ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের চেয়েও খারাপ হতে পারে।
সিরিয়া ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিস্তৃত অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ক্ষমতার তিক্ত লড়াই থেকে ১৫ এপ্রিল সংঘাত শুরু হয়।
সুদানের সেনাপ্রধান হিসেবে আছেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। আরএসএফের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেদতি।
দেশটির বেসামরিক শাসনে যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে দুই জেনারেলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিশেষ করে দ্বন্দ্ব রয়েছে—সেনাবাহিনীতে আরএসএফের অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা নিয়ে। আরএসএফের সদস্যসংখ্যা এক লাখ।
