দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২ দিনের সফরে বুধবার (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) ব্রিটেনে পৌঁছেছেন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বহু প্রতীক্ষিত ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর। এই সফরে তিনি বৈঠক করবেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে। এনিয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্য়ান্ডেলে লেখেন, ‘ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন অধ্য়ায় শুরু হল। লন্ডনে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সাক্ষাৎ করবেন রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে। বৈঠকে বসবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে। কৌশলগত দিক দিয়ে এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অপরদিকে, লন্ডনে পা রেখেই উচ্ছ্বসিত মোদি এক্সে লেখেন, ‘লন্ডনে পৌঁছালাম। এই সফর আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। দু’দেশের জনগণের সমৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাপী অগ্রগতির জন্য ভারত-ব্রিটেনের মজবুত বন্ধুত্ব অপরিহার্য।’ লন্ডনে পৌঁছেই এদিন প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁকে একঝলক দেখার জন্য অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উৎসাহ ও আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ, বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরই স্বাক্ষরিত হবে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিবৃতি দেবেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি। দিনের শেষে, রাত ৯টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে রাজপ্রাসাদে সাক্ষাৎ করবেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব:
∆ এই চুক্তির মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—
• ভারতের পক্ষ থেকে অ্যালকোহল ও মোটরগাড়ির উপর আরোপিত আমদানি শুল্ক হ্রাস;
• ব্রিটেনে ভারতীয় কর্মীদের প্রবেশে কিছু শর্ত;
• অভিবাসন সংক্রান্ত নীতি।
গত কয়েক বছরে এই সব ইস্যুতে বেশ টানাপোড়েন চলেছে। ২০২১ সালে বরিস জনসনের আমলে আলোচনা শুরু হলেও, লিজ ট্রাসের জমানায় তা স্থবির হয়ে যায়। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানের মন্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক ক্ষমতায় এসে আলোচনা ফের জীবিত করেন। অবশেষে কিয়ের স্টার্মারের নেতৃত্বে গঠিত লেবার সরকার আলোচনার জট কাটিয়ে ঐতিহাসিক এই চুক্তির পথ প্রশস্ত করে। স্টার্মার আগেই জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তাঁর সরকারের জন্য কূটনৈতিক অগ্রাধিকার। অবশেষে কিয়ের স্টার্মারের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই মিটল দীর্ঘদিনের জট, চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। তবে ব্রিটেন সফর সম্পন্ন করার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি রওনা হবেন মালদ্বীপের উদ্দেশে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তিনি—এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্রের খবরে।
Landed in London.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 23, 2025
This visit will go a long way in advancing the economic partnership between our nations. The focus will be on furthering prosperity, growth and boosting job creation for our people.
A strong India-UK friendship is essential for global progress. pic.twitter.com/HWoXAE9dyp