
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বয়স মাত্র ১১ বছর। সেই বয়সেই ঘটিয়ে ফেললো এক দুঃসাহসিক কাজ চিনের এক বালক। ঘটনাসূত্রে জানা যায়, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে মুখ ভার করে বাড়িতে বসেছিল ১১ বছরের বালক। মনের কথা কাকে বলবে? তাই মায়ের নামে নালিশ জানাতে দিদার বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সে। সকাল সকাল তাই নিজের সাইকেল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে ১৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে দিদার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিল সে। ফুটপাতে তাকে ক্লান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় ওই বিস্ময় বালক এই মুহূর্তে পরিবারের কাছে পৌঁছে গেছে ও ভালো আছে।
চিনের এক সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে এই সমস্ত ঘটনাটি। ওই সংবাদ সংস্থা জানায়, চিনের মেইজিয়াং শহরের একটি এক্সপ্রেসওয়ে টানেলের সামনে বসেছিল ওই নাবালক। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। নাবালকটি জানায়, রাস্তায় ‘রোড সাইন’ দেখে সে এত দূর সাইকেল চালিয়ে আসে। কয়েক বার ভুল পথে গিয়েও তা বুঝে আবার সঠিক পথ ধরে নেয় সে। রাস্তায় যদি খিদে পেয়ে যায়, তার জন্য বাড়ি থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল নাবালক। নাগরিক মহল মনে করে ওই নাবালকের এই জেদ ও লক্ষ্যে স্থির থাকার মানসিকতা যদি গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা যায়,তাহলে ওই বালক একদিন অসাধ্য সাধন করবে।
ঠান্ডা মাথায় ওই বালক ভেবেছে যে ঐ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ওর খিদে পাবে। তাই ও প্রস্তুতি নিয়েই ঘর থেকে বেরিয়েছিল। বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল পাউরুটি ও জলের বোতল।
বাড়ি থেকে আনা পাউরুটি আর জল খেয়ে খিদে মেটাচ্ছিল সে। কিন্তু দিদার বাড়ির কাছে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই টানেলের সামনে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল সে। আর চলার ক্ষমতা ছিল না তার। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে খবর দেয়। নাবালকের মা এবং দিদা দু’জনেই থানায় আসেন। থানায় তার মা বলেন, '' ও আমাকে ঝগড়ার সময় এক বার বলেছিল যে দিদার বাড়ি চলে যাবে। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম যে রাগের মাথায় ভুলভাল বলছে। সত্যি সত্যিই যে বেরিয়ে পড়বে তা বুঝতে পারিনি।’’ তবে একটা বিষয় খুবই পরিষ্কার যে ওর দিদা ওকে খুব ভালোবাসতো। শিশুরা ভালোবাসা বোঝে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা প্রচারিত হওয়ার পরই ওই বিস্ময় বালক সম্পর্কে অনেক কথা লেখা হয়। বেশিরভাগ মানুষ ওই বালকের উদ্যমের প্রশংসা করেছেন।
