
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ নীলছবির কেন্দ্রে তিনি। আজও তাঁকে দেখলে পুরুষদের লোমকূপে শিহরণ জাগে। সেই লেবনিয় মার্কিন সেলিব্রিটির জীবন মোটেই আরামদায়ক ছিল না। নীলছবির কাজ থেকে বেড়িয়ে আসার পরও অতীত তাড়া করে বেরিয়েছে মিয়াকে। মধ্য প্রাচ্যে তাঁর এই পেশাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। নীল ছবির জগতে তিন মাস কাজ করার পর ২০১৫ সালে এই পেশা থেকে বেড়িয়ে আসেন মিয়া। তবুও সমালোচনা তাঁর পিছু ছারেনি। সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল তাঁকে। পেশা ছেড়ে দিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে দিন কাটাতেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, " আমার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক মহিলা যোগাযোগ করতে চেয়েছিল। তাঁর ম্যানেজার সেইসব খুঁটিয়ে দেখতেন এবং তিনি কিছু ইমেল তাঁকে পড়ে শোনাতেন। তাঁর মধ্যে ছিল এক পাচার হওয়া মেয়ে ও জোর করে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে আনা হয়েছে এমন মেয়েরা আমাকে ই-মেল পাঠিয়েছিলেন। আমার মনে হয়েছিল, ভাগ্যিস আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেছিলাম। না হলে ওরাও ওদের সমস্যার কথা আমাকে জানাতে পারত না।”

এই সাক্ষাৎকারে মিয়া আরও বলেন ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পরও দুর্বিষহ ছিল তাঁর জীবন। ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পরও আতঙ্কে থাকতেন তিনি। তাঁর ট্রমা হত। মস্তিস্কের ওপর চাপ বাড়ত। কেউ সামনে চলে এলে ভীষণ স্ট্রেস বাড়ত। তাঁর মনে হত তাঁর ওই পোশাকের নিচটা দেখার জন্য লোকজন উন্মুখ হয়ে থাকত। গুগলে সার্চ করলেই তাকে দেখতে পাওয়া যেত। এমনকি তাঁর এই পেশায় যোগদানের বিষয়টি প্রথমে পরিবারের লোকজনও মেনে নিতে পারেননি। পরবর্তীকালে তাঁর পরিবার যখন এটি জানতে পারে, এটি তাঁরাও মেনে নেন নি। এবং তাঁকে অস্বীকার করেন।
তবে কিভাবে আসলেন তিনি এই পেশায়?
মিয়ার জীবনে বর্ণবাদ ছিল একটি বড় একটি বিষয়। সেটা তাঁর জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ক্যাম্পাস জীবনে সকলের থেকে আলাদা রাখতেন নিজেকে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই মনোনিবেশ করছিলেন তিনি। তবে এসময় চরম আত্ম-সম্মান বোধের ঘাটতি তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায় তাঁর মধ্যে। তাঁর এই ভাবনাচিন্তা থেকেই একদিন ব্যায়াম করা শুরু করলেন মিয়া। ওজন কমিয়ে ফেললেন ৫০ পাউন্ড। কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছিল না যে সে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। এরপর সার্জারি করিয়ে বড় করলে স্তনের আকার। তবু মনে হচ্ছিলো তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। একদিন তাকে নিল ছবির অভিনয়ের প্রস্তাব দেন এক মার্কিন পরিচালক। বুঝে না বুঝে রাজি হয়ে যান মিয়া। ভেবেছিলেন এতে বাড়বে আত্ম-সম্মান বোধ, আত্ম-বিশ্বাসও।

তিনি জানান, নীল ছবিতে কাজ করার সময় তাঁর মধ্যে কাজ করছিল অপরাধবোধ। একইসঙ্গে তিনি মনে করেছিলেন তিনি যা করেছেন ভালো করেছেন। ইউটিউবে জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘ফরওয়ার্ড’ এর উপস্থাপক ল্যান্স আর্মস্ট্রংকে এসব কথা জানিয়েছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন নিল ছবির তারকা মিয়া খলিফা।
তিনি জানান, প্রথম দিন অভিনয়ের পর খুব বেশি বিচলিত হননি। ভেবেছিলেন কোম্পানির বাইরে কেউ তার নিল ছবি গুলো খুঁজে পাবে না। কিন্তু পরে হঠাৎ চারদিক থেকে সাড়া হয়ে ভটকে যান। মিয়া খলিফা জানান, তিনি এমনটা ভেবেছিলেন কারণ সে সময় পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্টই ছিল না তার।
অক্টোবর ২০১৪ সালে নিল ছবির চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং ডিসেম্বরে ওয়েবসাইট তালিকায় শীর্ষ স্থানে অবস্থান নেন। তার পেশা নির্বাচন মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্কের বিষয় হয়েছিল, বিশেষ করে একটি ভিডিও, যেখানে তিনি ইসলামিক হিজাব পরিহিত অবস্থায় যৌনকর্ম সঞ্চালন করেছিলেন।
