
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পরপর দু’বার স্ট্রোকের ধাক্কা সামলে অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। গত শনিবার তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিন দিন কাটানোর পর বুধবার বাড়ি ফেরার অনুমতি মেলে। তবে স্বামীকে বাড়ি আনতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। সকালেই হাসপাতালে পৌঁছে অগ্নিদেবকে নিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুদীপা। সেই সময় আচমকাই মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে টানা মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের অভাবের জেরেই হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যায়। উপস্থিত চিকিৎসকরা তাঁকে ভর্তি করার পরামর্শ দিলেও সুদীপা তাতে রাজি হননি। প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই কিছুটা সুস্থ বোধ করেন এবং স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
এই কঠিন সময়ে প্রায় একাই সব দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে সুদীপাকে। যদিও অগ্নিদেব এখন আগের তুলনায় স্থিতিশীল, তবুও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে বলেই মত চিকিৎসকদের। তাঁর শারীরিক দুর্বলতা ও কম প্রতিরোধ ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে আপাতত বাড়িতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুদীপাও।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার থেকেই শরীরে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন অগ্নিদেব। প্রথমে সেটিকে মাইগ্রেন ভেবে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ধীরে ধীরে মাথাব্যথা তীব্র হওয়া, বাঁ চোখে ঝাপসা দেখা এবং হাঁটাচলায় সমস্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়। শেষে শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০১৭ সালে আইনি ভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুদীপা ও অগ্নিদেব। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তাঁদের এই প্রেমের বিয়ে হলেও তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বয়সের প্রায় ২১ বছরের পার্থক্য ও অগ্নিদেবের আগের বিবাহিত জীবনের কারণে নানা সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁদের। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের সম্পর্ককে আগলে রেখেছেন এই দম্পতি। একবার তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছিল, ‘অগ্নিদেবই শিখিয়েছে আমার কেমন হওয়া উচিত। ওই আমায় শিখিয়েছে আমার কী ধরনের পোশাক পরা উচিত। ওই আমাকে শিখিয়েছে আমার ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত। শিখিয়েছে কী ভাবে খাব, উঠব ,বসব। এক কথায়, ও হল পারফেকশনিস্ট।’
২০১৮ সালে তাঁদের জীবনে আসে পুত্র আদিদেব। এছাড়াও অগ্নিদেবের আগের পক্ষের একটি সন্তানও রয়েছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্ত চ্যালেঞ্জ সামলে বর্তমানে স্বামীর সুস্থতার দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন সুদীপা। আপাতত বাড়িতেই চলছে অগ্নিদেবের চিকিৎসা এবং দু’জনেই রয়েছেন চিকিৎসকদের নজরদারিতে।
