
কলকাতা, ৫ মে: পিএসজির মতো বড় ক্লাবে দুটো মৌসুম খেলার পরেও সুখকর হয়নি মেসির কেরিয়ার। ক্লাবের হয়ে শিরোপা বলতে লিগের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। এ পর্যন্ত ৭১ ম্যাচ খেলে করেছেন ৩১ টি গোল আর সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৩৪ টি। এই দুই মরসুম পিএসজিতে থেকে যে খারাপ পারফরমেন্স দেখালেন তা তিনি বার্সায় থাকাকালীন শেষ দিকে করেননি। পিএসজিতে মেসির ফুটবল কেরিয়ারটা কেন জমলো না? না জমার পেছনে কিছু কারণ তুলে ধরা যেতে পারে।
প্রথমত: বার্সেলোনার টিকিটাকা ফুটবল ছেড়ে পিএসজিতে এসে নতুন দর্শনের ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন নি মেসি। শুরুর মৌসুমের চেয়ে দ্বিতীয় মৌসুম কিছুটা মানিয়ে নিলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন এই তারকা। তাছাড়া বার্সাকে যতটা আপন করে নিয়েছিলেন পিএসজিকে সেভাবে নিতে পারেননি তিনি। আর নেতৃত্বে না থাকার জন্য পিএসজিতে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যায়নি।
দ্বিতীয়ত: মাঝমাঠে ভালো সঙ্গীর অভাবে মেসিকে ভুগতে হয়েছে। মেসি শুধু গোল করেন না, দলের খেলাও তৈরি করে গোলও করান। বার্সার মাঝমাঠে জাভি-ইনিয়েস্তার সঙ্গে যে রসায়নটা ছিল এখানে এসে তিনি পাননি। ভালো মিডফিল্ডারের অভাব ছিল।
তূতীয়ত: পিএসজিতে আক্রমণের ভাগের তিনজনই ছিলেন তারকা ফুটবলার। এ ক্ষেত্রে যা হয় প্রত্যেকেই নিজেদের স্কিল দেখাতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ভাল ছিল না। আর যে ব্যাপারটা সবচেয়ে ক্ষতি করেছে তাহল নেইমার-এমবাপ্পের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও।
আর শেষটা ছিল বয়সের ছাপ পারফরম্যান্সে পড়েছে
সময়ের সঙ্গে যেমন পরিপক্বতার সম্পর্ক থাকে তেমনি বয়সের সঙ্গে পারফরম্যান্সের বিষয়ও জড়িত। বার্সায় প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে নিজের সূরা সময়ে ছিলেন। তখন ক্লাব ফুটবলের একক ও দলীয় সাফল্যের সবকিছুই জিতেছেন। সে সময় যে গতি, ড্রিবলিং ও রিফ্লেক্স ছিল এখন আর দেখা যায় না। প্রতিপক্ষকে চাপ দেওয়ার মতো দৌড়ও আর দেন না তিনি।
