
দোহা, ৮ নভেমর : বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে কেন্দ্র করে সেজে উঠছে কাতারের বিভিন্ন শহর। অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের সমর্থকদের চোখ তো থাকবেই, সেই সঙ্গে থাকবে গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের নজর। বিশ্ব ফুটবলের প্রাক্তন তারকাদের মতো কাতারে বিশ্বকাপ দেখতে যাচ্ছেন বিশ্বের বেশ কিছু নামী বিনোদন তারকারা। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে কোনও খামতি রাখতে চায় না আয়োজক দেশ কাতার।
গত কয়েক বছর থেকেই নতুন কিছু স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে। পুরনো স্টেডিয়ামগুলি নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলেছে কাতার। যাঁরা বিশ্বকাপ দেখতে কাতার যাচ্ছেন, তাঁদের বিনোদনের জন্য সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা শহর। বিশ্বকাপ ঘিরে বেশ কিছু চমকও রাখছে আয়োজক দেশ। তার মধ্যে অন্যতম বিশ্ব ফুটবলে প্রথম বার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়াম গড়ে উঠেছে। অনুমান করা হচ্ছে বিশ্বকাপ দেখতে বিশ্বের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই মানুষ ভিড় জমাবে কাতারে। বিশ্বকাপকে ঘিরে চলবে বেশ কিছু ইভেন্টও। সেই সঙ্গে তিনটি সংগীত অনুষ্ঠানও। যেখানে গান গাইতে দেখা যাবে বেশ কিছু নাম করা সংগীত শিল্পীদের। বিশ্ব ফুটবলের উৎসবকে ঘিরে প্রায় ৯০টিরও বেশি ইভেন্ট চলবে।
কাতারের আইকনিক মিউজিয়াম অফ ইসলামিক আর্ট গত মাস থেকেই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এত মানুষের সমাগমের কথা ভেবে, হোটেল, আপার্টমেন্ট, ভিলা, ফ্যান ভিলেজ, মরুভূমি ক্যাম্প— এমনকি, ক্রুজ়েও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ফুটবল ফ্যানদের। কাতার সংলগ্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, ইরান থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের জন্য রাতে ব্যবস্থা করে হয়েছে বিশেষ বিমানের। যাতে তাঁরা ম্যাচ দেখে রাতেই আবার ফিরে যেতে পারেন তাঁদের দেশে। কাতারের রাজধানী দোহাতে নভেম্বরের শুরুর থেকেই ফুটপাথ সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের স্টল, পানীয়ের স্টল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই খুচরো বিক্রেতারা এমন ভাবে পসরা সাজিয়ে বসিয়েছেন, দেখে মনে হয় এক কার্নিভালের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এত মানুষের সমাগমের মধ্যে যাতে নির্বিঘ্নে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন করা যেতে পারে, তার জন্য গোটা শহর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হবে কাতার। নিরাপত্তার জন্য আয়োজক দেশ মরক্কো, পাকিস্তান, আমেরিকা, তুরস্ক সহ ন্যাটোর বেশ কয়েকটি দেশের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে।
