
কলকাতা, ১ নভেম্বর: সারদা রঞ্জন রায়চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার ক্রিকেটের জনক―প্রবাদ পুরুষ এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেটের অন্যতম অগ্রদূত। তাঁকে বাংলা ক্রিকেটের ডব্লু জি গ্রেস নামে অভিহিত করা হয়।
বাংলার এই মহান ক্রিকেটার আজকের দিনে (১ নভেম্বর,১৯২৫) প্রয়াত হন। ১৮৭০ সালে তৈরি করেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম বাঙালি যুব ক্রিকেট দল ―ঢাকা কলেজ ক্রিকেট ক্লাব। বাংলায় নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী যখন বয়েজ ক্লাব গঠন করে ফুটবল খেলাটা শুরু করেন, সেই সময় ক্রিকেট খেলারও চল শুরু হয় বাংলায়। ১৮৮৪ সালে সারদা রঞ্জনের আগ্রহে কলকাতায় ক্রিকেট খেলার ক্লাব ঐতিহ্যবাহী টাউন ক্লাব গঠিত হয়। এছাড়া বাংলায় জেলাভিত্তিক ক্রিকেট দল গঠন করে টুর্নামেন্টের আয়োজনও করা হত সেই সময়। ১৮৮৭ সালে সন্ন্যাস নেওয়ার আগে পর্যন্ত বাংলার ক্রিকেট খেলা নিয়ে জড়িত ছিলেন।
ক্রিকেট খেলার বিকাশে বাংলার যুবসমাজের কাছে ক্রিকেট খেলাকে জনপ্রিয় করতে সারদা রঞ্জন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাছাড়া ক্রিকেটের প্রচার, প্রশিক্ষণ, টুর্নামেন্টের আয়োজন যেমন ছিল, তেমনি ক্রিকেটের সরঞ্জাম সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে আনতেও সব সময় সচেষ্ট ছিলেন তিনি। ১৮৯৫ সালে কলকাতায় বাংলার প্রথম ক্রিকেট সামগ্রীর ও বইয়ের দোকান এস রায় অ্যান্ড কোম্পানি খোলেন। শিয়ালকোট থেকে উইলো কাঠ এনে যশোহর রোডে নিজের কারখানায় দেশীয় প্রযুক্তিতে ব্যাটসহ ক্রিকেটের সামগ্রী তৈরি করে সস্তায় বাংলার বাজারে বিক্রিও করেছেন। তাছাড়া বাংলায় ক্রিকেটে নিয়ম কানুন নিয়ে তিনিই প্রথম বই লেখেন। যদিও ভারতের মুম্বইতে পার্সিরা প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করে, তবে তারা খেলাটি কেবল অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। বাংলার তথা ভারতের যুবসমাজের কাছে প্রথম ক্রিকেট নিয়ে এসেছিলেন সারদা রঞ্জনই। বাংলার ক্রিকেটের জনকরূপে পরিচিত সারদা রঞ্জনের বিশাল সাদা লম্বা দাড়ির জন্য কিংবদন্তি ব্রিটিশ ক্রিকেটার ডব্লু জি গ্রেসে-র সঙ্গে তুলনাও করা হতো। সারদা রঞ্জন ক্রিকেট খেলার প্রতি নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকলেও, ফুটবলে সমান আগ্রহী ছিলেন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে সুরেশচন্দ্র চৌধুরী কলকাতায় ইষ্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সারদা রঞ্জন হন প্রথম সভাপতি।
