
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চলছে এক প্রতিবাদী আন্দোলন। কেনই বা মৃত্যু হল তাঁর? তাহলে কি সে র্যাগিংয়ের শিকার? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণ? কেনই বা একজন ১৮ বছরের ছেলেকে চিৎকার করে জনসমক্ষে জানাতে হল যে সে সমকামী নয়? এসব প্রশ্নের উত্তর বলবে তদন্ত।
ঘটনায় সৌরভ চৌধুরীর পর গ্রেফতার আরও ২ জন। রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া দীপশেখর দত্ত ও সোশিওলজির দ্বিতীয় বর্ষের পডুয়া মনতোষ ঘোষকে গ্রেফতার করে যাদবপুর থানার পুলিশ। যার ফলে স্বপ্নদীপের মৃত্যুর ঘটনায় এই নিয়ে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে হল ৩। ধৃত দীপশেখর দত্ত বাঁকুড়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ধৃত মনতোষের বাড়ি হুগলির আরামবাগ এলাকায়।
তবে এই রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে নানান জায়গা থেকে উঠে আসছে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সেই প্রতিবাদীদের একজন হয়ে দাঁড়ালেন ঋদ্ধি সেন। সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লিখলেন, " 'আমরা শিক্ষিত, আমরা পড়াশোনা করা সংস্কৃতি মনস্ক সামাজিক সভ্য প্রাণী। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তকমা পেয়ে ছাতি চওড়া করে ঘুরে বেড়ানো শিক্ষিত নাগরিক, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড মাপার প্রিন্টিং মেশিনে যখন বছর শেষে মার্কশীট বেরোবে তখন দেখা যাবে জেলের বাইরেই আসলে খুনির সংখ্যা বেশি। আমাদের শিক্ষিত তকমা দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক দাঁড়িপাল্লা ভেঙে গেছে বহুবছর আগে, এখন শুধু আমাদের সামাজিক শিখার ধারণার বিকৃত চেহারার ফার্স্ট,সেকেন্ড, থার্ডের র্যাঙ্কিং চলবে। আরেকটা প্রাণ চলে গেলো, যার কথা ছিল বাঁচার, যার অধিকার ছিল বাঁচার, শুধু এইটুকু একবার অনুভব করুন, শুধু এইটুকু, কী ভয়াবহ, কী সাংঘাতিক। একবার ভাবুন, মনুষ্যজাতি হিসেবে আমরা নাকি এগিয়েছি, আমরা উড়ো জাহাজ চড়ি, অনলাইন পেমেন্ট করি, বাথরুমে জেট স্প্রে লাগাই, শুধু আমরা এখনও একে অপরকে নিজেদের মতো বাঁচতে দিই না। এই খুনের বিচার চাই, তবে 'Ragging' নামক অস্ত্র দিয়ে আরও একটা খুন হওয়া কি আমরা আটকাতে পারছি?'
